“একটা নদী, হইতো যদি”

মনে রাখবা, এই নদীর কিনারায় যখনই তুমি যাবা।ভুলেও যাদের সাথে তোমার আলাপ হবে তাদের নাম ঠিকানা বা কোন ব্যাক্তিগত কিছু জিজ্ঞেশ করতে পারবানা। জিজ্ঞেশ করলে তারা তার উত্তর দিবেনা তা না ! দিবে কিন্তু তুমি যখন এর পরের বার আবার আসবা এখানে, তারপর এরপরেরও বার, এর পরের হাজারো বার। তাকে তুমি আর খুঁজে পাবানা। আমার প্রথম দিন, আমিতো জানতাম না।আমি আমার দাদার বয়েসি এক বুড়োকে জিজ্ঞেশ করে ফেলেছিলাম। সেও উত্তর দিয়েছিল। তাকে আমি আর দেখিনি।

দেখোনা? এই নদীরই কোন নাম নাই ! তুমি তোমার যা খুশী তাই নাম রেখে দিতে পারো। এই নদীর উপরের আকাশেরও কোন ঠিক ঠিকানা নেই। আমার মনে হয় নদীটা তার মন মেজাজের উপর এইখানে অমাবস্যা অথবা পূর্নিমা ছড়ায়। পূর্নিমায় তো প্রায় ত্রিভূজ আকৃতির নদীটার প্রতিটা কিনারাতেই পানিগুলো জলজল করতেথাকে। তবে অই জলজলের মদ্ধে মানুষের চোখের লুকাতে চাওয়া কান্নার জলজল করা পানির মত লাগে আমার কাছে।

জানিনা আমি আর কারো কাছে এমন লাগে কিনা! তবে যারা দর্শনার্থীরা আসে তাদের সবার একটা আকর্ষণ থাকে এইখানের জোনাক মাছ। জোনাক মাছ নামটা আমারই দেওয়া। বলেছিলাম না? এইখানে কোন কিছুরই কোন নাম নেই। এই জোনাক মাছ শুধু অমাবস্যার সময়ই নদীর কুলে এসে থাকে। তুমি যদি হাত রাখো পানির উপরে তারা তোমার হাত যেখানে যাবে সেখানে জলজল করতে করতে অনুসরণ করবে। অনেককেই দেখা যায় কাচের গোল পাত্র এনে দুটো করে জোনাক মাছ এইখান থেকে নিয়ে যায়। লোকের মুখে শুনেছি তা নাকি ঘরে আশির্বাদ বয়ে আনে। আমি এইসব বিশ্বাস করিনা। আর আসলে, এই মাছ এই নদী ছাড়া কোথাও বাচঁতে পারবে বলে আমার মনেই হয়না

আজকে আমি এসেছি একজনের সাথে দেখা করতে। তাকে তো আমি প্রথম দিন আমার নাম বলেই দিচ্ছিলাম প্রায়! সে আমার ঠোটে তার আংগুল রেখে নিয়মের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর একটা বেপার খেয়াল করেছি, সে যেইদিন আসে অইদিনই কেন যেন পূর্নিমা থাকে! আর অইদিন জোনাকমাছেরাও না থাকেনা! থাকে শুধু পূর্নিমার “চাঁদের আলো” নদীর চারপাশের সবুজ নাম বিহীন গাছ, “চাঁদের আলো”, যা রূপালি। সুবুজ গাছ আর নদীর নীল পানির রঙ মিশে চারপাশে যেই মিশ্র রঙটা হয় তার নাম আমি দিয়েছি ককটেইল।

আমি হয়তো ধরে ফেলেছি কেন এইখানে কোন কিছু অথবা কোন মানুষেরই নাম নাই কেন? নাম বললেই তার জাত বা ধর্ম নিয়ে কথা আসবে। এইখানের মানুষেরাও আলাদা আলাদা স্টেরিওটাইপ হয়ে যাবে। রেইসিজম আসবে! এগুলোর ফলাফল সরূপ যে হয় মানুশে মানুষেই যুদ্ধ ! তা কে না জানে ? তাই’ই হয়তো… কিন্তু ও এখনো আসছেনা কেন? আমারতো পরিকল্পনা ছিল দুইজন মিলে আজ “এই” নদীর একটা নাম দিব ! আজতো পূর্নিমা ! কই ও….?

নশ্বর

হাওয়া, তোমার আবিষ্কৃত রেসিপির আইস্ক্রিমটা যদি এখন খাইতে পারতাম ! ১৯৮২ সালে বের হয়েছিল, এমন একটা সিডি প্লেয়ার ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে করতে বলল আদম। তোমার ডিলারের কাছ থেকে আজকে তাজা জিনিস আনার কথা ছিল। হাওয়া উত্তর দেয়। হাওয়া আরো বলে, আর তাজা ‘ও নেগেটিভ’ রক্ত ছাড়া আইস্ক্রিম ভাল লাগেনা তুমি জানোই !

সব জায়গায়ই দূষিত রক্তরে হাওয়া। আর ভাল্লাগেনা বাল! আর ডিলার বাইঞ্চোদটাও ফোন ধরতাছেনা! রাগে আরো জোরে সিডি প্লেয়ার পরিষ্কার করতে থাকে আদম।

এই একুশ শতকে এমন হবে তা আমরা আগেই জানতাম আদম! কিছুতো করার নেই আমাদের। আমরাতো বাড়ি বাড়ি যেয়ে তাদের বিশুদ্ধ খাবার খাওয়ার দাওয়াত দিতে পারিনা!

আদমের রাগ যেন আরো বাড়ছে, সিডি প্লেয়ার রেখে এখন সে তার সবচেয়ে প্রিয় ১৮৩৪ সালের  “সি.এফ. মার্টিন” গিটারের উপর হাত বাড়ায়। আর কতবার ওর বই পড়বা? একটু যেন রাগ করেই বলে আদম। আমারতো মনে হয় তুমগো মদ্ধে আসলেই তখন কিছু একটা ছিল!

হাওয়া আল্লাদে হিহি করে এসে উঠে বন্ধু মিগেলের লেখা “ডন কীহতে” (Don Quixote) পড়তে পড়তেই। আদমের এই ধরনের বাচ্চামো তার ভালই লাগে। যদিও ওর থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর ছোটই আদম।

হাওয়াও আদমকে খোঁচা না দিয়ে ছাড়েনা। বলে, গত একশ বছর ধরেই দেখছি রাগ উঠলেই এই গিটারটাই তোমার বাজাতে মন চায়, আরো তো অনেক গিটার আছে তোমার! মার্টিন,এর বাসায় যেয়ে যে দিন রাত পরে থেকে এই গিটার বানিয়েছিলে আমার কথা ভুলে গিয়ে তা কি আমি ভুলে গিয়েছি নাকি?

বন্ধু মার্টিনকে মনে পরতেই আদমের মনটা ভাল হয়ে যায়। কেবিনেট মেইকার প্রতিভাবান বন্ধুকে অনেক বলেও নিজেদের দলে নিয়ে আসতে পারেনি বলে আফসোসই করতে থাকে। আর বলে,

জানো! এখনো যে ভালবাসা জিনিসটা এই শালায় নশ্বরদের অনেকের মদ্ধেও কেমনে বাইচ্চা আছে তা আমার মাথায় খেলেনা!  আর ৫০ বছর পর তো মনে হয় রক্ত আর ভালবাসা কোনটাই থাকবোনা। তখন আমাগো কি হইব?চিন্তা করেছো বউ? 

ভয়ে তিন দিন ধরে তাজা রক্ত খেতে না পারা হাওয়ার দূর্বল হাত পা গরম হয়ে আসে। ক্লান্তিতে চোখ লাল লাল দূতি দিতে থাকে…

“Only Lovers Left Alive (2013)” সিনেমা থেকে অনুপ্রানিত।।

বোবা মনুষ্যত্ব !

তোমার বিত্ত অর্থ । আর
মানবতা বিত্তের অর্থ কারো !
তোমার বিত্ত পারে অনেক, 
শব্দ করে খশ-খশা-খশ টুংটাং !
তাদের বিত্ত অগ্রাহ্য অবহেলিত…
করাও যায়না দান প্রার্থনালয়ে ।
গর্জে উঠেনা ! নিমিত্ত, বোবা মনুষ্যত্ব  ।। 

ইজেলের মত, দাঁড়িয়ে থাকো !

সে, অনুনয় করলো ।
তুমি একটু দাঁড়িয়ে থাকো !
ইজেলের মত । দেখি…. ক্যানভাস লাগবেনা ।
অইটা আমার মনে ।।

তুমি তো আবার নেপচুনের মেয়ে !
ঘুমিয়ে যেয়োনা, আবার প্রেমে পরে যাবো !!

এইগুলা অতিত ছিল ।।
পুনরূদয়ের সময় সে’ই ঘুম থেকে উঠলো ।
নির্লজ্জ, অবহেলিত ছিল। মনে পরলো !
গল্পের ক্যানভাস’টা যে শুধু তার বুকেই ছিল…

ঘরের রোগ

একটি ঘরের কর্কট রোগ ।।
অইযে ! এর হৃত্পিন্ড কুপি নিভু নিভু হয়ে
কাপঁছে ! সুখ ? ভয় ? না উভয় ?

তুমি,
তোমার নেশা নেশা ধোঁয়াই এর কারণ ।
শুন্য ঘর শুধু ধোঁয়া চায় অই ধোঁয়া !

আরে ! এত গুরুগম্ভীর কেন ?
এই কর্কট অই ক্যান্সার নারে বাবা !
তবে, এই ব্যাধিরও ঔষধ নাই ।।

ঘর বাচঁবে… 😅

বারণ কিন্তু নাই কারণ !

অইহানেতে যাওয়া বারণ ।।
না না না ! উহু উহু
কারণ-টারণের ধার ধারিনা !
মুখের উপ্রে মাথা ! কইতে
আমিও পারি একটু-আকটু মিছা কথা !

আমার ভাল লাগে, রূপা ! আর
জমতাছে স্বর্নের ইট ঝাকে ঝাক ।
কই ? অন্যহানের একলা দরজায় ;
কি তারপরে ? কিসসুইনা,
বলতে হইবে, সিসিম ফাক ।।

আদিখ্যেতা

রাস্তা দিয়ে হাটঁছিলাম… কাকে যেন,
কয়দিন আগেই ! বলছিলাম,
আদিখ্যেতা দেখলে গা জ্বলে !
অইযে ! প্রেম করছে বলেই, দেখাতে হবে ?
ভাই ! থাক একটু রেখে-ডেকে… চুপচাপ !

রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম… কাকে যেন,
গুনগুন করে গুনছিলাম ! ফিরবে কবে ?
আদিখ্যেতা দেখলে গা জ্বলে !
সেইযে ! গেলে তুমি বাড়ি ! তোমার সাথে আড়ি !
তুই ! আয় তারাতারি… আগে খুব ভুল ছিলাম !

সবুজ আকাশ, তাই কালো…

সকাল হওয়ার কথা ! তাই,
সকাল হয়েছে…

কথা আরো হওয়ার অনেক অনেক ! অথবা,
না হলেই ভাল ছিল…

আকাশটা তার মতই আজ চীর ‘সবুজ ! কিন্তু,
বিশাল ভীরে দূরের সুর হঠাত কেউ…

নিজের নিজেকেই লাগছে পর পর ! সুতরাং,
সব ‘সবুজই আজ থেকে কালো…

.

.

.

.

.

.

.

.

.

( Ruhan’s MOM Died Last Night… )

হয়তো মন অথবা রিদয়… যাইহোক,
আসলে তো এক একটা সমুদ্দুর ।
এইখান থেকে কয়েকটা বা কয়েক কোটি মাছ
বর্শি দিয়ে আটকিয়ে ধরতেই তুমি পারো…
কিন্তু ইচ্ছে হলেই গোটা সমুদ্রের পানি তুমি
কিভাবে ! কিভাবে নিংড়াতে শুরু কর ?

চাঁদ-টাঁদ…

এইযেহ !
নেও ধর, তোমার চাঁদ
পাইরা নিয়া আইসা পরছি ।।
কই… কই… ?
ধর-ধর-ধর হেব্বি ভারি… তাত্তারি !
এখন যাও, একটু চাঁদ-টাঁদ ভাইজা খাও…

.
.
.

মিছা কইছি… 🤪 চাঁদ এখন এইযে এই ফেইসবুক পেইজেই কিনতে পাওয়া যায়ঃ https://www.facebook.com/techworkshopbd/

( Tech Workshop BD )

শূন্য খালি…

মাথার ভেতরে আমার বিশাল
একটা আকাশ আছে ।
আমি’ই তা খুলতে পারেনা । 
মনের ভেতর গভীর সাগর ।
আমি এখন আর স্বীকার’ই করেনা !
কালো কলিজা’টা বিরাট চুম্বক । 
মাস্টার ওস্তাদজীরা কোনদিন
নিজের দিকে টানতে শেখায় না । 

আকাশ খোলা হেলান দেওয়া,
গভীর জলে ডুইব্বা যাওয়া,
মনে মনে আকর্ষণে !  লাগবেনা তার,
বরং, আজ আমি যা পারি তা
গিলতে গিলতে সব খাওয়া ।। 
মাটিতে-মাটিতে যুদ্ধ করার এবং জেতার
বুদ্ধি করছি…. মাঝে মাঝে এ দ্বন্দ্ব মোছার
ডাস্টার খোঁজার ভানে, আর না পাওয়া !

নিজেই নিজের হজম শেষে । 
শূণ্য খালি সবই হাওয়া…