ঠিক নাকি ঠিক ?

ঃ কি ! ঠিক বলছি নাকি সত্য কইছি ?
ঃ জী সত্য কইছেন…
ঃ কথাডা তাইলে ঠিক বলি নাই ?
ঃ অবশ্যই ঠিক বলছেন…
ঃ তারমানে সত্য কইনাই ?
ঃ ভুল হয়া গেছে ! মিথ্যা বলছি…


ঃ এইবার তুমি সত্যি বললা !

ত’খনগুলা

অনেক আগে। বুসসসসো ? অইযে ত’খনগুলাতে,
আমরা না প্রায়’ই স্কুল পালাইতাম ! একা অথবা দলে দলেও !
স্কুলে যাওয়ার নাম করে অন্য কোথাও যেতাম, ঘুরতাম । এই এখন যেমন তুমি যা কর, “নেট চলে গেছে, নেট ঠিক হচ্ছে স্যার/ম্যাম” এইসব বলে-টলে ক্লাস ফাঁকি মারো, পরে ক্লাস থেকে বের হয়ে অনলাইন গেইমস খেলতে থাকো বা আড্ডা মারো কোন এক চ্যাট বক্সে !

হ্যা, ঠিক এরকমটা না হলেও, অনেকটা ব্যাপার’টা এরকমই ছিল আমাদের… হয়তো ! 🙄

এরচেয়ে বরং…

তারপর ঘুম ভাংগার পর সে বর্তমানে চলতে থাকা সংবাদ দেখার সিদ্ধান্ত নেয়…

এক জায়গায় “এক ধরনের মানুষ’রা” “আরেক ধরনের মানুষ’দেরকে” খুব মারছে ! তার খুব খারাপ লাগতে থাকলো অসহায় মানুষ গুলোর কথা ভেবে । ‘নাহ ! এও সম্ভব? কিভাবে পারে তারা এরকম ! মায়া লাগেনা ? অত্যাচারী গুলোর কি বিবেক নেই ? মানুষ মানুষকে এইভাবে অত্যাচার করে ! মারে ?

ভয় লাগে খুব তার, তা বাড়তে থাকে । ঘুমিয়ে পরার অভ্যাসের সময় আসতে থাকলেও, অসহায় মানুষগুলোর অবস্থার কথার চিন্তায়, নিদারুণ বিনিদ্রা ভর করে তাকে। পালানো হারানো প্রিয় ঘুমকে সে কিভাবে কখন আবার পাবে, সেই ভয়ে, ভাবতে ভাবতেই থাকে ।।

সংবাদ চলছিল । সংবাদে এবার বলছিল, সে নিজে যেই জায়গায় থাকে সেটা খুব শক্তিশালি । অস্ত্রে ভরপুর । অই “এক ধরনের মানুষ”গুলো তার ক্ষতি করতে পারবেনা। ক্ষতি করতে আসলে তাদেরই সে মেরে দিতে পারবে । তার নিজের দেহেও তো মজুদ করা কত শক্তি ! ঘৃণা… অনেক অনেক… প্রতিশোধের কথা মাথায় ঘুরতে থাকে তার !

তখন, আরামে আস্তে আস্তে, নিশ্চিন্তে তার চোখ জুড়ে আবার ঘুম আসতে থাকে… 🙂

.
.
.
.

আমি বরং,
মানুষের কারণে না মরে
রোগের হাতেই না হয় মরি ।।
মানুষের প্রতি অভিমাণ,
দরকার নেই আমার !
করলে যে, একটু বেশিই
আমি করে ফেলি… !

.
.
.

#BONGKOBi

প্রতিযোগিতায়…

শুনো, অনেক অনেক রাত আগের… বা পরের কথা ।
একবার কি জানি কি হল ! পৃথিবীর সব আয়না’রা না মানুষের প্রতিবিম্ব দেখানো থামিয়ে দিল ! কিছুদিন পরে আয়ানাদের আরাম দেখে সব ক্যামেরাগুলোও না মানুষের ছবি তোলা বা দেখানো থেকে নিজেদের ছুটি ঘোষণা করল ! তারা বলল, “অনেক তো তোমরা দেখলে, এখন থেকে আমরা বসে বসে তোমাদের দেখবো”

মানুষগুলো তখন পরে যায় দারুন বিপদে ! তাদের শান্তি হারিয়ে যেতে লাগে। বাধ্য হয়েই মানুষ’দেরকে, নিজেকে কেমন লাগছে তা জানতে আরেকজন মানুষের সাহায্য নেওয়ার অভ্যাসই শুরু করতে হয় ।

ভালই চলছিল। কিন্তু কিছুদিন পর, মানুষগুলো আর কেউ-কাউকে বিশ্বাস করতে পারলোনা । কারণ, আজকে তাকে অসুন্দর লাগছে বলায় কালকে সে আরেকজনকে প্রতিশোধ নিতে অসুন্দর লাগছে বলে।আস্তে আস্তে না! কারো মনে, কোন রাজ্যেই শান্তি থাকে না !

ধিরে ধিরে মানুষগুলো নানান দলে বিভক্ত হতে থাকলো। একদলের মানুষ সবাই সবাইকে সুন্দর এবং অন্যদলের সবাইকে অসুন্দর বলে ডাকতে থাকলো। অসুন্দর-অসুন্দর বলে একে অন্যকে ভেংচি কাটা শুরু করলো, গালি দিতে লাগলো। এভাবে তারা দলেরা দলেরা নিজেরা নিজেদের কাছে সুন্দর আর অন্য দলের কাছে অসুন্দর হতে থাকলো।

এভাবে কি থাকা যায় ? মানুষগুলোও থাকতে পারলো না। শুরু হল যুদ্ধ, ভয়ানক যুদ্ধ । যুদ্ধে হেরে যাওয়া দলকে মানতে হল, জিতে যাওয়া দলের মানুষগুলোই আসলে আসল সুন্দর । আর হেরে যাওয়া দলকে কি করতে হত? তারা অসুন্দর বলে তাদের আর পৃথিবীতে থাকার অধিকার নেই স্বীকার করে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হত (‘পৃথিবী ত্যাগ করা হচ্ছে ভয়ানক ব্যাপার, তুমি আরেকটু বড় হলে তা জানতে পারবে’ ) এভাবে সুন্দর-অসুন্দর প্রতিযোগিতার যুদ্ধ মানুষে-মানুষে চলতে থাকলো, রাজ্যে রাজ্যে,অনেক অনেক রাত…

এভাবে পৃথিবিতে আস্তে আস্তে শুধু সুন্দর মানুষগুলোই বাস করতে থাকলো বা তুমি বলতে পারো, যুদ্ধ জিতে বাস করার যোগ্যতা অর্জন করে নিল। তারা সুখে শান্তিতেই বাস করতে লাগলো। কিন্তু জানো? অল্প কিছু রাতই ছিল সেই সুখ।

কিছুদিন পরেই না ! তারা খেয়াল করল, তাদের মনে শান্তি নেই হয়ে যেতে শুরু করছে ! আশেপাশের সবাই-ই সুন্দর বলে সে নিজেকে *মনে-মনে অন্যের থেকে সুন্দর ভেবে আগের মত শান্তি আর পাচ্ছিল না, তাদের মনে-মনে সুন্দর হওয়ার তৃপ্তি উধাও ! টের পেতে থাকে, যুদ্ধ জয়ী পৃথিবীতে থাকার অধিকার করে নেওয়া মানুষেরা !

তখনই ! মানুষের যে মনও থাকে, মনও আছে, মানুষগুলো তা আবিষ্কার করল । এবার কার মন কত বড় তা প্রমাণ করার সেই ‘যুগ শুরু হল এবং আগের মতই প্রতিযোগিতাও আরম্ব হয়ে গেল ।

এবার মানুষগুলো তার মন’ই বড় তা বুঝানোর জন্য অন্যকে ‘বেশি সুন্দর’ বলা শুরু করতে থাকলো। কিন্তু আবার না শুরু হল দ্বন্দ্ব! কেউ নিজেকে বেশি সুন্দর স্বীকার করতে চাইলনা। নিজের মন’কেই বড় করে দেখাতে অন্যকে সে বারবার তুমি বেশি সুন্দর, তুমিই বেশি সুন্দর বলে ডাকতো থাকলো।

আর কত সহ্য করা যায় বল ! মানুষগুলো তখন ‘বেশি সুন্দর’ কথাটি নিজেকে কেউ বললেই রেগে যেতে লাগলো ! সেই আগের ‘অসুন্দর’ বলে ভেংচি কাটার মত এখন ‘বেশি সুন্দর’ বললেই গালির মত ভেংচির মত আক্রমণ হিসেবে লাগতে লাগলো মানুষদের কাছে ।

কারণ, মনকে যে চাইলেই ভাল কিছু সুন্দর কিছু ভাবানো যায়, মানুষরা তা তখনও আবিষ্কার করতে শিখেনি ! আবার মানুষের রাজ্যে যুদ্ধ লাগার অবস্থা শুরু হওয়ার ব্যবস্থার মত যেইনা শুরু হতে নিল !

এরপরই জানো ! দুষ্টু আয়না আর ক্যামেরাগুলো হঠাৎ কি করল? তারা তাদের ছুটির ইস্তফা ঘোষণা করে আবার মানুষকে তাদের চেহারা দেখানো শুরু করলো।

“আসলে আমার মনে হয়, আয়না আর ক্যামেরাগুলো যুদ্ধ লেগে-লেগে মানুষ শূন্য রাজ্যে তাদের মজা দেখা বন্ধ হয়ে যাবে, বুঝতে পেরেছিল হয়তো !”

মানুষরা তখন তাদের ‘মনের কথা ভুলে গিয়ে, আবার আয়না’য় বা ক্যামেরায় তাদের চেহারা দেখার তৃপ্তি পেয়ে এবং তা নিয়েই ব্যস্ত হতে গেল । এভাবেই তারা ভালই তো থাকতে লাগলো ! তুমি কি বল ?

আর, আমি আর তুমি হচ্ছি সেই ভুলে যাওয়া দলের পৃথিবীতে থাকার অধীকার পাওয়া ‘সুন্দর মানুষ’গুলো।
যাও এবার দাত ব্রাশ করে আয়না দেখে, নিজেকে নিজের মত সুন্দর ভেবে, ঘুমিয়ে পর…

‘মন’কে আরো ভাল ভাবে আবিষ্কার, মন’কে তোমার নিজের ইচ্ছার মত ভাল ভাল মন’ওয়ালা মানুষের মত চিন্তা করার আবিষ্কারের গল্প তোমাকে আরেকদিন শুনাবো… আমি নিজেই আগে জেনে নেই…

দিশেহারা’রা

ওই দেশে না সকাল আসেনা ! আসে, তবে ওখানে জন্মানো আর বসবাসরত মানুষ গুলো অল্প কিছু খুবই ভাগ্যবান মানুষেরাই শুধু সকাল হতে দেখেছিলেন। শুধু দেখেছিলেনই না, তারাই প্রত্তেকে কোন না কোনভাবে সেই সকাল আসার পেছনে ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই ভূমিকা যে কত রকম হতে পারে তা তোমাকে বলে বা লিখে দিলেও শেষ করতে পারবোনা । কারণ এখনো অনেক কিছু অজানাই আছে। যেমন ধরো, কেউ হয়তো কিছুই করেনি কিন্তু যারা কিছু করেছিল তাদের বাধা দেয়নি । বরং ঘরে লুকিয়ে বসে বসে বাইরে থেকে ভূমিকা যারা রাখছে তাদের জন্য তার নিজের বিধাতার কাছে প্রার্থনাই করছিল । আর সেটাই ছিল তার সকাল আনার পেছনে ভূমিকা।

তারপর সকাল এসেছিল, সক্কাল ! আসলে সকালটা খুব বেশিই এসে পরেছিল। সুন্দর সকাল দেখা ওই জায়গার মানুষ গুলো দিশেহারা হয়ে গেল। তারা সকলেই ভাবতে লাগলো এই সকাল শুধু তারই, শুধুই তার । তারা ঘরের ড্রয়ার, আলমারি, সিন্দুক, বোতল, বয়াম, নিজ নিজ পকেট ইত্যাদি ইত্যাদি গুলোতে সকালকে নিজেদের জন্য বন্দি করার নেশায় বুদ হয়ে রইল ।

ভয়ংকর ব্যাপার হল যারা একই সাথে সকালের জন্য সংগ্রাম করেছিল, তারাও দুই ভাগ, না না না ! আরো বেশি ভাগ ভাগ ভাগ ভাগ হয়ে যেতেই থাকলো । এখন ঘরে যে বসে আছে, সে বুদ্ধি বানায় কিভাবে যারা তার সাথে একমত নয়, তাদের বাধা দেওয়া যায় !

আবার যারা সকাল আসার আগে এইখানে বসবাস করত। এখানের রাতও দেখেছে, দেখেছে সকালটাও। যারা হয়তো এখানে আর নেই, মরে গিয়ে যারা বেঁচে গিয়েছে বরং। তারা কি ভাবে ? সেই শুধু রাতই কি ভাল ছিল ? সকাল সবার রূপ জলজল করে দেখিয়ে দিচ্ছে যে ! তারা লজ্জা পায়, সকালও হয় লজ্জিত !

এখন সকাল আসে।

তবে রাতে আসে,

গভীর রাতে !

দিশেহারা মানুষ গুলো যখন

নিষ্পাপ চেহারায় ঘুমমমম দিয়ে থাকে ।।

#BONGKOBi

“একটা নদী, হইতো যদি”

মনে রাখবা, এই নদীর কিনারায় যখনই তুমি যাবা।ভুলেও যাদের সাথে তোমার আলাপ হবে তাদের নাম ঠিকানা বা কোন ব্যাক্তিগত কিছু জিজ্ঞেশ করতে পারবানা। জিজ্ঞেশ করলে তারা তার উত্তর দিবেনা তা না ! দিবে কিন্তু তুমি যখন এর পরের বার আবার আসবা এখানে, তারপর এরপরেরও বার, এর পরের হাজারো বার। তাকে তুমি আর খুঁজে পাবানা। আমার প্রথম দিন, আমিতো জানতাম না।আমি আমার দাদার বয়েসি এক বুড়োকে জিজ্ঞেশ করে ফেলেছিলাম। সেও উত্তর দিয়েছিল। তাকে আমি আর দেখিনি।

দেখোনা? এই নদীরই কোন নাম নাই ! তুমি তোমার যা খুশী তাই নাম রেখে দিতে পারো। এই নদীর উপরের আকাশেরও কোন ঠিক ঠিকানা নেই। আমার মনে হয় নদীটা তার মন মেজাজের উপর এইখানে অমাবস্যা অথবা পূর্নিমা ছড়ায়। পূর্নিমায় তো প্রায় ত্রিভূজ আকৃতির নদীটার প্রতিটা কিনারাতেই পানিগুলো জলজল করতেথাকে। তবে অই জলজলের মদ্ধে মানুষের চোখের লুকাতে চাওয়া কান্নার জলজল করা পানির মত লাগে আমার কাছে।

জানিনা আমি আর কারো কাছে এমন লাগে কিনা! তবে যারা দর্শনার্থীরা আসে তাদের সবার একটা আকর্ষণ থাকে এইখানের জোনাক মাছ। জোনাক মাছ নামটা আমারই দেওয়া। বলেছিলাম না? এইখানে কোন কিছুরই কোন নাম নেই। এই জোনাক মাছ শুধু অমাবস্যার সময়ই নদীর কুলে এসে থাকে। তুমি যদি হাত রাখো পানির উপরে তারা তোমার হাত যেখানে যাবে সেখানে জলজল করতে করতে অনুসরণ করবে। অনেককেই দেখা যায় কাচের গোল পাত্র এনে দুটো করে জোনাক মাছ এইখান থেকে নিয়ে যায়। লোকের মুখে শুনেছি তা নাকি ঘরে আশির্বাদ বয়ে আনে। আমি এইসব বিশ্বাস করিনা। আর আসলে, এই মাছ এই নদী ছাড়া কোথাও বাচঁতে পারবে বলে আমার মনেই হয়না

আজকে আমি এসেছি একজনের সাথে দেখা করতে। তাকে তো আমি প্রথম দিন আমার নাম বলেই দিচ্ছিলাম প্রায়! সে আমার ঠোটে তার আংগুল রেখে নিয়মের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর একটা বেপার খেয়াল করেছি, সে যেইদিন আসে অইদিনই কেন যেন পূর্নিমা থাকে! আর অইদিন জোনাকমাছেরাও না থাকেনা! থাকে শুধু পূর্নিমার “চাঁদের আলো” নদীর চারপাশের সবুজ নাম বিহীন গাছ, “চাঁদের আলো”, যা রূপালি। সুবুজ গাছ আর নদীর নীল পানির রঙ মিশে চারপাশে যেই মিশ্র রঙটা হয় তার নাম আমি দিয়েছি ককটেইল।

আমি হয়তো ধরে ফেলেছি কেন এইখানে কোন কিছু অথবা কোন মানুষেরই নাম নাই কেন? নাম বললেই তার জাত বা ধর্ম নিয়ে কথা আসবে। এইখানের মানুষেরাও আলাদা আলাদা স্টেরিওটাইপ হয়ে যাবে। রেইসিজম আসবে! এগুলোর ফলাফল সরূপ যে হয় মানুশে মানুষেই যুদ্ধ ! তা কে না জানে ? তাই’ই হয়তো… কিন্তু ও এখনো আসছেনা কেন? আমারতো পরিকল্পনা ছিল দুইজন মিলে আজ “এই” নদীর একটা নাম দিব ! আজতো পূর্নিমা ! কই ও….?

শব শব শব দ্ব

ওর ঘুম ভাংলো হঠাৎ করেই যেমন করেই তা এসেছিল। বুকে কেমন যেন শব্দ হচ্ছে ! এই শব্দ কি? নিজেকেই শব্দ দিয়ে সে বোঝাতে পারছেনা ! পাশে জুসা ঘুমাচ্ছে, ওকে ডাকলে বলবে “আরো মদ খাইসোশ শালা?, ঘুমারে ভাই !” 

শব্দগুলো বুকে তাড়া দিচ্ছে, মানে বাড়ছে। তাই সে অভ্যাসেই তারা গুনতে বাড়ান্দায় গেল। তারারাও আজ নেই। শব্দ শব্দে শব শব শব দ্ব করে আরো তাড়া দিচ্ছে ! 

কোনভাবেই বুঝে উঠতে পারছেনা কি হচ্ছে আসলে ! এর অর্থ কি ? যে কোন অর্থের বিনিময়েই হোক এর অর্থ বের করতে হবে। সে জানে, শব্দগুলো কথায় পরিণত হতে দেওয়া যাবেনা । ওদের মুখ বন্ধ করতেই হবে ! এক্ষুনি, নইলে মাথায় উঠে তারা কিলবিল বিলকিল করতে থাকবে। মানিব্যাগে একটা ব্যান্ড এইড ছিল। সেইটাও “সেই মহান” দিনে পকেটমার হয়ে গিয়েছে। 

প্যাচ ছুটে যাওয়া স্কচ এর বোতলে সে স্কচটেইপ দিয়ে বন্ধ করে রেখেছিল। কিছু টেইপ নিয়ে সেখান থেকে, সে আয়নার সামনে গেল। শব শব শব দ্ব হতে থাকা জায়গায় আয়নায় দেখে সে অইখানটায় বন্ধ করে আবার ঘুমাতে চলে গেল। 

ঘুমিয়ে যাওয়ার পর, আয়নার গায়ে ঠিক তার বুক উচ্চতা বরাবর সেই লাল স্কচটেইপ লেগে আছে দেখা গেল… 

আঁধারই ভাল ছিল

একটা আঁধারের কাছ থেকে প্রাণপনে দোউড়িয়ে পালিয়ে এসে সে হাপ ছেড়ে বাঁচা গিয়েছে
ভাবছিল। কিন্ত, হঠাত কর্কশ তীব্র আলোতে এসে তার অসহ্য যন্ত্রণায় ঘুম ভেংগে গেল। 

তার মানে তো আঁধারই ভাল ছিল ! সপ্ন দেখতে কোন শালায় আবার না ভালবাসে ? তবে ওর ব্যাপারটা অন্য। ভয়াবহ সপ্ন দেখে সে আরো বেশি রোমাঞ্চিত হয় ।জর (অথবা অন্য কিছু) তার ৭০ কেজি ওজনের দেহ ৭০০ কেজি বানিয়ে ফেলেছে।ফ্রীজ থেকে একটা বোতল নিয়ে আসারও শক্তি নেই।এর চেয়ে আসলে অই বালের স্বপ্নই ভাল ছিল ম্যান ! 

মনে হচ্ছে ক্ষুধা লেগেছে, এই ক্ষুদা’কে সে আসলে আগে ক্ষিদা বলতো।কেউ তাকে চোখ গরম করে বলেছিল “ছোটলোক’দের মত ক্ষিদা বল কেন ? এর পর থেকে সে ক্ষুদা বলা শিখে গিয়েছে।এখন সে কল্পনায়ও ক্ষিদাকে ক্ষুধা বলছে খেয়াল হলে, সে হাসতে যেয়েও হাসতে পারলোনা।কারণ গলা শুকিয়ে গিয়েছে।আশে পাশে তো মদের বোতলও নাই ! স্বর্গ হইলে খুব ভাল হইত।চাইলেই সেইখানের সেবক/সেবিকারা ক্রিস্টাল গ্লাস নিয়ে এসে বলতো, “জনাব এইযে, আপনার শরাব। সে বলতো, “আমি শরাব খাইনা, হুইস্কি অথবা রাম নেই তোমাদের এখানে?” ভাবতে ভাবতেই সে আবার অট্টহাসি দিতে চাইল। কিন্ত এবার শুধু গলা দিয়ে গর গর করে বিচ্ছিরি শব্দ বের হল। 

একবার সে “গোল্ডেনে” যেয়ে মদ খেয়ে টাকা পরিষোধ করতে না পারলে যেই ৩ জন বডিবিল্ডার টাইপ লোক তাকে ধাক্কা দিয়ে (কিছুটা মাইরও ছিল অবশ্য) বের করে দিয়েছিল।তারা একদম রোবটের মত স্পীডে এসে তাকে আবারো মারতে মারতে রাস্তায় মগবাজার ফ্লাইওভার এর নিচে রেখে গেল। এখনো গলা এরকম গর গর করছে। হুইত! 

পাশেই ড্যান্ডি খেতে থাকা এক পাগলি তাকে বলল, “হইব নাকি?” এই জিনিস সে আগে দেখলেও কি তা ঠিক মত জানতোনা।পাগলিটি তার অনুমতির অপেক্ষা না করেই তার মুখের সামনে এসে পলিথিন ধরল।অই পাহাড় দের কাছ থেকে মাইর খাওয়ার পর তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।এখন শ্বাস নেওয়ার সময় মনে হচ্ছিল “আরে এইটাই তো পৃথিবীর সবচেয়ে দূষনমুক্ত বাতাস”।কিন্তু কিন্তু সে উলটা পালটা দেখছে কিনা বুঝতে পারছেনা! পাগলি যতটাই অমায়িক ছিল, হটাত ততটাই ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়ে তার গালে বজ্রপাতের মত থাপ্পর দেওয়ার পর বলল, “তোরে পুরাডা টানতে কইছি বান্দি?” 

তার আর কিছু মনে নেই এর পরে। 

তার জ্ঞান ফেরার পর সে, একটা ডাক্তারকে তার অপারেশন থিয়েটারে ঢুকতে দেখলো।সে ভাবছে, “হোয়াট দা হেল ইজ গোয়িং অন!” এই পাগলি এইখানে কি করে ? “পাগলি প্রায় তার মুখের সামনে এসে বলে, (সে এমনকি পাগলির নিঃশ্বাসের উষ্ণ বাতাস তার গালে অনুভবও করে)
“কি কোন সমস্যা মিস্টার আদনান?” সে সব ভয় দূর করে বলে, “না।কিন্তু আমার খুব ক্ষিদা লাগছে”! পাগলি ডাক্তার’কে চকিতেই চিন্তিত এবং ভীশণ চোখ ছলছলে রাগান্নিত মনে হল…

“অমুক-তমুক-শামুক”

তো, 
আমাদের আজকের গল্পের নায়কের নাম জনাব “অমুক”।ভিলেইনের নাম জনাব “তমুক”।কিন্তু গল্প শুরু হওয়ার আগেই আমাদের গল্পের লেখক জনাব “শামুক” বুঝতে পারছেন না কে আসলেই নায়ক আর কেই আসলে ভিলেইন ? দুইজনের মনের মধ্যেই তিনি এই প্রচুর ভাল মানুষী আবার পর মূহুর্তেই প্রচন্ড খারাপ মানুষী দেখতে পারছেন ! 

গল্পের প্রটাগনিস্ট আর এন্টাগনিস্ট কোনটা তা বের করতে করতে জনাব শামুকের মাথা-মুথা গরম হয়ে যাচ্ছে।একটা মানুষ এত খারাপ আবার এত্ত ভাল মানুষ কিভাবে হয় ? কেই বা কার পিছনে ছুটবে ? তা তিনি মিলাতে পারছেন না ! 

জগতের সমান্তরাল সত্যের এই বিভীষিকার মায়ায় পরে জনাব শামুক নিজেকে খুব অসহায় মনে করছেন।দুইজনের মধ্যেই তিনি আসলে নিজেকেই এখন দেখছেন ! এবং এর পর পর থেকেই তার খুব অসহায় অনুভূতি জ্বরে পরিণত হচ্ছে।এরকম অনুভূতি হলে তিনি নিজের দুই চোখ আর মেলে রাখতে পারেন না।তিনি এই জগত থেকে বের হয়ে ঘুমে চলে যান। 

এক, একটি ভীষণণণ… ঘুমমমম… 

মা-নুষ !

এরপর ও বসে বসে ভাবতেছিল, পৃথিবীর সব ধর্মের (বড়লোক-ছোটলোক) মানুষদের একটা বড় ঘরে কোন ধরনের খাবার ছাড়া বন্দি কইরা রাখলে কি হবে? তারা কি মরার আগে তাদের ধর্ম ভুইলা যাবে ? নাকি একে অপরকে খাওয়া শুরু করবে ? 

বারুদ, বন্দুক, বোমা ইত্যাদিতো আগেও ছিল। কিন্তু লোহা এবং অন্য অন্য খনিজ রূপে।মহান মানুষরাই সেগুলো একত্র করে ভয়াল রূপ দিয়েছিল ।যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমান ইত্যাদি ইত্যাদি কি আমরা জানতাম না ! আমাদের জানানো হয়েছিল । 

অথচ, পৃথীবির অন্য কোন জীব কি মানুষের মত তাদের সৃষ্টির সেরা হিসাবে দাবী করে ? ওর মনে হল আসলে, “মানুষ” ।। মা – কথা টা যতই আপন । নুষ কথাটা ততই পর।বিচ্ছিরি, সার্থপর, হিংস্র, বিদ্বেষী ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি…