ঠিক নাকি ঠিক ?

ঃ কি ! ঠিক বলছি নাকি সত্য কইছি ?
ঃ জী সত্য কইছেন…
ঃ কথাডা তাইলে ঠিক বলি নাই ?
ঃ অবশ্যই ঠিক বলছেন…
ঃ তারমানে সত্য কইনাই ?
ঃ ভুল হয়া গেছে ! মিথ্যা বলছি…


ঃ এইবার তুমি সত্যি বললা !

পৃথিবী কি এখন আস্তে আস্তে ঘুরা বাদ দিয়া, জোরে ব্লেন্ডারের মত ঘুইরা তারপর সবাইরে একসাথে মিলমিশ করবো… ?

Scary Times Scary Lines… – 9

২২ এপ্রিল ২০২০ । বুধবার । সকাল ৫ঃ৩০ টা ।

বাংলাদেশে করোনায় যেই কয়জন মারা যেতে পারে । লকডাওনের কারণে পরবর্তি সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে খাদ্যের অভাবে মৃত্যু’র সংখ্যা যদি এরচেয়ে বেশি হয় ?

আমি আশা করছি দুর্ভিক্ষ হবেনা। যদিও লকডাওনের সুফল আসলেই যদি পেতে হয় ! তবে লকডাওন পদ্ধতি আরো অনেক অনেক অনেক দিন প্রয়োজন। COVID-19 এর টীকা বা প্রতিষেধক বের হওয়ার আগ পর্যন্ত। এই কোভিড সম্বন্ধে ঠিকঠাক এখনো বিজ্ঞানী’রা জেনে উঠতে পারছেনা।

ধারণা করা হচ্ছে করোনার টীকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার এবং তা বাংলাদেশ পেতে পেতে ২০২২ পর্যন্তও লেগে যেতে পারে! এতদিন পর্যন্ত বর্তমান সময়ের ন্যায় লকডাওন ক্ষমতা কোন রাষ্ট্রেরই নেই। আর বাংলাদেশ বর্তমানের ন্যায় আগামী আরো দুই-তিন মাস লকডাওন থাকলে দুর্ভিক্ষ দেখতে বাধ্য। এখন পর্যন্তই যতদিন হয়ে গেছে লকডাওন এর দিন। সেখানে, যদি আজকেই লকডাওন তুলে ফেলা হয়। এরমানেও অনেক অনেক মানুষই খাদ্য অভাবে বহু দিন ভুগবে। আর সব কিছুর মূল্যবৃদ্ধি তো আছেই !

আমরা জানি, সরকার যেই হাজার হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা পাশ করেছে এই করোনা এবং লকডাওন এর কারণে! এই প্রণোদনা’র সুফল সাধারণ জনগণ সবাই না পেলেও, ভবিষ্যতে পণ্য বেশি দামে কিনে পরে অই হাজার কোটি টাকা সমান সমান জন সাধারণকে’ই করতে হবে।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ একবার দুর্ভিক্ষ দেখেছে। সেই দুর্ভিক্ষ হওয়ার অনেক অনেক কারণই ধারণা করা হয়। কারণগুলো জানতে চাইলে অনেক বই ছাড়াও উইকিপিডিয়া থেকেও কিছু জানতে পারবেন। ‘বাংলাদেশে আজ এই ২০২০ সালে জনসংখ্যা বলা হয় প্রায় ১৮ কোটি (আমার মনে হয় আরেকটু বেশি) । ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় আট কোটি (আদমশুমারী) । সেই দুর্ভিক্ষ সম্বন্ধে উইকিপিডিয়া থেকে কিছু বাক্য এই লেখার প্রয়োজনে সরাসরি দেওয়া হলঃ ‘বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। সরকারী হিসেব অনুসারে ২৭,০০০ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। বেসরকারি হিসেবে অনুমানিক ১,০০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ জন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মৃত্যুবরণ করে।’

আরো দুইটা দিন বেশি বেঁচে থাকার চেষ্টা বা এর অধিকার প্রত্যেক মানুষের আছে। লকডাওন আমাদের জীবিত থাকার দিনগুলো বাড়াচ্ছে। আশা করি, গবেষক’রা পৃথিবীর যেই আগত ভয়াল রুপ ধারণা করছে। সব ভুল হবে। আর আমরা চলন্ত সংক্রামক থেকে ধারনার অনেক আগে মুক্তি পাবো ! মুক্তি না পেলেও ! এই অশিব সুন্দরি করোনায় মৃত্যু বা দুর্ভিক্ষে মৃত্যু’র মিছিল, এর কোনটাই আমাদের বেশি একটা দেখতে হবেনা। আশা করছি, দুর্ভিক্ষ’ই হবেনা। আশা করছি। আসলে ‘আশা করা ছাড়া আমাদের কোন আশা নেই।

অবশ্যই মানুষের জীবন থেকে অর্থনীতি এর মূল্য কখনো’ই কোথাও বেশি হতে পারেনা। প্রশ্ন করছি এই কারণে, কারণ আমি জানিনা উত্তর। জানলে আরো বেশি এই নিয়ে চিন্তায় থাকতে হবে হয়তো ! কেউ যদি আমার চিন্তাগুলো ভুল বলে বুঝিয়ে দিত ! আমার নিজের চিত্ত শান্তি হত !

নিজের মৃত্যু চিন্তা করা সহজ। কিন্তু নিজের আপনজনের মৃত্যু চিন্তা করার চেয়ে কঠিন চিন্তা, মনুষ্য মনে আমার মনে হয়না আছে !

শারাবান তাহুরা… 🍷

মদ হারাম — সুদ হারাম ।
মদ ই-লিগ্যাল — সুদ লিগ্যাল ।

বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান অঞ্চল বিধায়, মদ ই-লিগ্যাল । এই যুক্তিতে তবে, সুদ ই-লিগ্যাল কেন নয় ? ব্যাংক ব্যাবসা করবে কিভাবে ? ব্যাংক এর প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে নিশ্চয়ই জানেন ? তাই’ই সুদ লিগ্যাল ।

ট্যাকা – ট্যাকায় ঘুটা দিলে আপনে বলতে পারবেন ? কোনটা সুদের আর কোনটা না-সুদের ট্যাকা ? মদে মদে ঘুটা দিলে সবই হারাম মদ । ঠিক বলছি ? নাকি ঠিক বলছি ?
তো, হিসাব ক্লিয়ার… ?

আমি বড় হয়া সুদের ব্যাবসা করুম । লাভের ট্যাকা দিয়া মদ কিনুম । ছিঃ ! মদ তো আমি খাইনা ! তাই, একটা ‘বার (মদের দোকান) দিমু ।

মদ বেচুম… পকেটে ট্যাকা-ট্যাকা-ট্যাকা ভরুম… আজান দিলে মসজিদে জামায়াতে নামাজ’টা পড়ুম… মোনাজাত ধরুম… মসজিদের কল্যাণ তহবিলে পকেটেত্তে কিছু-টিছু ট্যাকা দিমু… আশে-পাশের মুসল্লিদের “বাহ বাহ” প্রশংসার বাণী শুনুম… সম্মানিত আমি, মাথা উচা কইরা চলুম-টলুম…

সমাজে আমার মত আছে কেউ ? মান্যগণ্য করে সব্বাই । দেখলেই সালাম দিতে ভুলে না কেউ । বেহেশত আমার ঠ্যাকায় কেডায় ? আচ্ছা আচ্ছা যাও, তোমারেও নিয়া যামু । কত স্বর্নের ইট আমার জমছে অইহানে ! এইটা কোন ব্যাপার ? গেলাম নিয়া তোমারে !

কিন্তু, বেহেশতে যায়া আমি পানি আর খামুনা ভাই । গলায় ঢালুম, ‘শারাবান তাহুরা… 🍷

৩ মাস

পৃথিবীর সমস্ত দেশ-অঞ্চলের সমস্ত সরকার কি বর্তমান COVID-19 পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিবে ? পরের এমনই বা এরচেয়ে খারাপ কিছু আসার প্রস্তুতি অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিককে কমপক্ষে ৩ মাস বসিয়ে বসিয়ে অন্তত বাইচা থাকার মত খাবার সরবরাহ করার জন্য অর্থ বা খাদ্য যোগান রাখার নিয়ম করবে ?

কঠিন কাজ খুব ? আমার মতে ৩ মাসের এই প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে। অন্য স্বাভাবিক সময়ে কাজের বিনিময়ে ১২ মাস খাওয়াইতে পারার কথা । সরকার কি চায় আসলেই সবাই তিনবেলা খেতে পারুক ? দেশের প্রতিটি, মানে একদম প্রতিটি নাগরিক ? আসলেই চায় ? হাহা !

Scary Times Scary Lines… – 5

৩০ মার্চ ২০২০। সোমবার । সকাল ৮ঃ২৭ ।

“মৃত” হইতেও যোগ্যতা লাগে ! অধীকার তাদের’ই আছে মৃত হওয়ার । জী জনাব, যারা সরকারী খাতার অংকে যোগ হওয়া মৃত । তারাই কেবল নিজেকে মৃত বলে দাবী করতে পারেন ।।

বাকিরা শুধু মইরাই গেছে, চইলা গেছে বোকাগুলা…

বাংলাদেশের সরকার যাদের এই মহামারী দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছেন তারা দুই দিন যাবত মোট মৃতের সংখ্যা ৫ জন’ই বলছেন। অথচ টিভির সংবাদ দেখাচ্ছে বা বলছে করোনা হইলে যেই যেই লক্ষণ থাকে সেই সেই লক্ষণে সারা দেশের বেশ কিছু জায়গায় বেশ কিছু মানুষ মৃত।

কই ? আগেতো এমন এমন লক্ষণ দিয়ে ঠাশ করে কেউকে চইলা যাইতে দেখি নাই ! এমন সংবাদ দেখি নাই !

এই লক্ষণে মৃত’দের সংখ্যার যোগফল আগের সরকারী খাতায় তোলা মোট যোগফল ৫ এর চেয়ে কম না । কি হচ্ছে তারাই জানেন ! ভাল কিছু করছে তারা নাকি আরো খারাপ কিছু যোগফল বয়ে আসছে এই ভুল যোগফল দেখানোর ফলে ?

বুঝছেন নাকি বুঝছেন ?

নির্দিষ্ট একটা ধর্মের ( আসলে নিজ ধর্মের ) মানুষ’দের দুঃখ কষ্ট আর নির্যাতিত হওয়া’ই যার চোখে পরে। অন্য ধর্মের মানুষদের নির্যাতিত হওয়া গুলা দেখা, অবচেতন মন’ই তার আলাদা কইরা রাখে। মানুষে মানুষে আলাদা করার প্রবণতার কারণেই যে অসহায় মানুষগুলার এই পরিস্থিতি ! তা তাদের কে বুঝাবে ?

ভাই, সোজা কথা শুনেন । আপনের মত একজন ধর্ম/বর্ণ দিয়া মানুষ আলাদা করা বিকৃত আরেক মানুষ’ই অই নির্যাতিত মানুষদের নির্যাতন করছে, করতেছে । ক্ষমতার জোরে ।

আর এই ক্ষমতা তার থাকবেনা আপনের মত চিন্তা করা মানুষগুলা অনেক অনেক না থাকলে ।। সবাই এক দলের হয়া গেলে তার যে ক্ষতি ব্যাপক ! সে উল্টা পাল্টা করলে যে সব একই দলে থাকা মানুষগুলা ক্ষমতা কাইরা নিবে ! এর থেকে তার জন্য দলে দলে ভাগে ভাগ মানুষ জাতিই ভাল ।

উল্টা পাল্টা করবে সে। এর পরে যারা তার এই উল্টা পাল্টা পছন্দ করবেনা তাদের বিপক্ষে আরেকদল’কে লাগিয়ে দিবে। যুদ্ধ চলবে চলবে। তার উল্টা বদ কাজের কথা বাদ দিয়ে মানুষরা নিজেরা নিজেরাই রক্ত হারাবে। এইভাবে ওই ক্ষমতাওয়ালারা আমাদের মদ্ধেই ঝগড়া লাগায় বাইচা যাচ্ছে। নিজের ক্ষতির চেয়ে সে বরং দলে দলে যুদ্ধ নিয়াই আমরা ব্যাস্ত থাকি, সেটাই পছন্দ করে ।

আর এই ক্ষমতাওয়ালাদের বানানো দলগুলোর কোন না কোন একটার খুব ক্ষুদ্র একটা ছোট অংশ আপনি/আমি ।।

বুঝছেন নাকি বুঝছেন ? … ( আসলে বুঝছেন, কিন্তু স্বীকার করবেন না, তাই অপশন এই দুইটাই 😅 )

তুমি এখন কোন ধরনের মাটি ?

মাটি’রে তুমি ভুইল্লা গেলেও মাটি তোমারে ভুলে নাই !
দেখি, দেখিতো এখন তুমি কোন ধরনের মাটি… ?

মাঝে মাঝে মাটি’র একটা নাড়া দিয়া মনে করায়া দিতেই হয়। নাইলে তো আবার বলবা মনে করায় নাই ! ওই শুরু থেকাই, মাটির দায়িত্ব’ই মাঝে মাঝে একটু মনে করায়া দেওয়া । ভুইল্লা যাওতো ! শুধুযে মাটির ধরন নিয়াই থাকো !

কত ধরনের ( তোমাদের বানানো ) মাটি কত জায়গায় “সারা’টা জীবনই” এই যা মনে পরলো তোমার কেবল, তা মনে নিয়া বাইচ্চা থাকে, জানোই তো ! শুধু ভুইল্লা থাকো । দেখো, একটু বেশিদিন মনে কইরা থাকতে কেমন লাগে !

আচ্ছা যাই হোক, তুমি আসলেই কোন ধরনের মাটি… ?