উন্নত প্রানী !

পৃথীবির সবচেয়ে অসভ্য প্রাণীরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে
নিজ নিজ দল এবং মতের সাথে থেকে তারা শক্তি যোগাচ্ছে।শুধু টাকার প্রশ্নই যখন আসছে তখন তারা কিছুক্ষনের জন্য হাসিমুখে একে অন্যের সাথে মিশছে ! 

তারাই কিন্তু আবার সৃষ্টির শুরু থেকে নিজেদের পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রানী হিসেবে দাবী করে আসছে…

কিন্তু অদ্ভুত

কিন্তু অদ্ভুত ! মনে করছিলাম, আরে ! আপন চিনছি তোরে !  
দেখসিলাম তোমার ঘুমমম, হাসি, চোখ আর ছলছল, 
মৃদু ছোঁয়া দিলেই হয়তো তা পরতো টপটপ । 

একটা নদী, 
মনে আছে ? অইযে নামহীন ত্রিভূজাকৃতি নদী’টা ? 
এখনো নাম দেওয়া হয়নাই “যে”…. হবে ! কবে ? 

যাইহোক, শুনো, শুনো না ! শুনো, 
তোর উষ্ণ কপালে অদৃশ্য টিপ । 🙂 
তখন না ! শুধু আমি না, সমগ্র জাহানই হইছিল 
শান্ত, নিবিড় ! সার্থক আমি অতিমানবের একারই এক দীপ !! 

আসসা যাইগা ।।।।

তাকে বাঁচতে হল

এর একটু পরেই তার নেশা কেটে গেল।মনে মনে “শালায় বিদেশি খায়াও কি লাভ, মদতো তাইলে দেশিই ভাল !” এই ভাবতে ভাবতে সে পরে কাকে খুন করবে তার পরিকল্পনা করতে লাগলো। 

কিন্তু খারাপ মানুশের তালিকা করা তার “কিলিং বোর্ড” এ তাকিয়ে দেখলো সাতজন শুধু মহান ভাল মানুষই বাকি আছে ! এখন নিজের থেকে খারাপ আর কেউই বাকি নেই। এখন নিজেকেই নিজে মেরে ফেলার পালা আরকি ! 

তবে নাহ ! এই সাতজনের মদ্ধেই তো একজন খারাপ মানুষ এইতো আবির্ভাব হল বলে! সে নিজে মরে গেলে অইটাকে কে মারবে ? তাই তাকে বাঁচতে হল… 

তুমিই জানো

তো আজকে তোমরা কি শিখবে ? 

আসলে তুমি কি শিখবে, শিখতে চাও, 
তা তুমিই জানো। তুমি কেমন/কতটা ভন্ড  
তা তুমিই জানো।  
আর কেউ, কেউইনা।  
তুমি আসলে তোমার থেকেই শিখো ।  
তুমি যা চাও শেষ পর্যন্ত তাই হবে।  
তা ভাল করে জানো বলেই তোমার এত্ত অহংকার! 

আমি/আমরা/তারা তোমাকে চিনিনা। কক্ষনোই না… 

ঘ্রাণ

তুমি দেইখো, তুমি বিশ্বাস কর !  
ঘ্রাণ ! ঘ্রাণের থেকে আর কোন কিচ্ছুই 
তুমি বেশি মনে করতে পারবেনা ।  
এই ঘ্রাণই আসলে মায়া ।  
যা তুমি আর কোত্থাও পাবেনা।  
না মানে একদমই “না” 

আয়নার আয় ! না ?

আয়না ! এই আয়না এক কাপ চা দিয়ে যা। কিরে কোথায় গেলি?

বেডরুমে বেড এ শুয়ে টিভি দেখতে দেখতে কাজের মেয়েকে ডাকছেন মিসেস জাহেদ। আজকে অফিস থেকে ফিরতে তার স্বামি ভিকি জাহেদ এর অন্যান্য দিন থেকে একটু বেশিই দেরি হচ্ছে। ফোন করে ভিকি তাকে বলে দিয়েছে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে। তবুও স্বামির ফেরার জন্যে অপেক্ষা করছে সে।

অনেক্ষন ডাকাডাকি করার পরও আয়নার কোন জবাব নেই দেখে মিসেস জাহেদ নিজেই উঠলেন আয়নার শোয়ার ঘর রান্না ঘরের উদ্দেশ্যে।

বেডরুম থেকে বের হয়ে মিসেস জাহেদ ড্রয়িংরুমের বাতি জালালেন। শুন্য নিরব ঘর।
করিডরের বাতি, ড্রয়িং রুমের বাতি তিনি জালিয়েই রেখে ছিলেন। এখন সব নেভানো কেন তিনি বুঝতে পারছেন না। প্রথমে ডর‍্যিং রুমের এবং পরে করিডরের বাতি আস্তে আস্তে জালাতে জালাতে তিনি ধীরে ধীরে রান্না ঘরের দিকে এগুতে থাকলেন তিনি। রান্না ঘরের দিকে এসে দেখলেন এখানেও বাতি নেভানো। দুইবার আয়না ! আয়না !  করে ডাক দিয়েও কোন জবাব না পেয়ে বাতি জালালেন তিনি।

মিসেস জাহেদ হা করে তাকিয়ে রইলেন। আয়না রান্না ঘরের কোনায় কুজো হয়ে বসে হাতে একটি আয়না ধরে আছে। বাতি জালানোর সাথে সাথে তার দিকে তাকিয়ে আয়না বলে, মিশটি শেষ!

আয়নাকে দেখে মনে হচ্ছে সে কাঁদছিল। অপ্রস্তুত মিসেস জাহেদ এর ভ্রম আয়নার কথায় ভাংগে।

– মিশটি শেষ মানে? চিনি শেষ? যা নিচের দোকান থেকে এক কেজি চিনি আয়!
– আচ্ছা। বলে আয়না তার হাতে ধরা আয়না নিয়েই যেতে নেয় নিচে।
– এটা নিয়ে যাচ্ছিস কেন? রেখে যা !
– জী আপা ।

আয়না দোকানে যাওয়ার পর মিসেস জাহেদ আয়নার আয়না ধরে দেখতে থাকেন অবাক হয়ে। অন্য সব আয়নার মতই দেখতে এই আয়না। শুধু মাজখানে লম্বা এক ফাটলের দাগ। কিন্তু আয়নায় তার চেহারা মোটেও বোঝা যাচ্ছে না। পুরো ঘোলা। হঠাত ফাটা যায়গাটার কোনায় চকচক করে উঠে। ফাটা জায়গায় আংগুল দিয়েই আও করে উঠলেন তিনি। আংগুল দিয়ে রক্ত ঝরছে তার। ফাটা যায়গায় তার আংগুল থেকে পরা রক্ত খানিকটা লেগে আছে এখনো। রাগে রান্না ঘরের জানালা দিয়ে আয়নাটা ছুড়ে মারলেন তিনি।

মিসেস জাহেদ তার কাটা আংগুলে বেন্ড এইড লাগাচ্ছেন। আয়না চিনির প্যাকেট হাতে তার সামনে আসে। আয়না কে দেখে মিসেস জাহেদ বলতে নেন, শোন তোর ভাংগা আয়না….

বলতে বলতেই আয়না তার আরেক হাতে থাকা সেই আয়না মিসেস জাহেদের দিকে ধরে, আর শিতল ভাবে বলে, নিচে পরে গেছিল মনে হয়। নিয়া আসছি।

হা করে আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকেন মিসেস জাহেদ। আয়না চিনির প্যাকেট আর তার হাতে থাকা আয়না নিয়ে রান্না ঘরের দিকে চলে যায়।

মিসেস জাহেদ বেড এ আধো শোয়া হয়ে চা খাচ্ছেন আর টিভি দেখছেন।

– আয়না ! আয়না ! ডয়িং রুমের বাতিটা নিভালি কেন ! জালিয়ে দে! এই আয়না !

মিসেস জাহেদ বিরক্ত হয়ে উঠে বসেন। ড্রয়িং
রুম পার করে তিনি রান্না ঘরের দিকে যান। রান্না ঘরের কাছাকাছি এসে সে ফিসফিস করে কথা বলার শব্দ পান। মনে হচ্ছে আয়নাই কার সাথে যেন কথা বলছে, না না! তুমি আমাকে নাও। যত রক্ত লাগে নাও।
– কিরে আয়না ! কার সাথে কথা বলছিস? বলে মিসেস জাহেদ রান্না ঘরের বাতি জালিয়ে যা দেখলেন তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।
আয়নার হাত থেকে ঝরঝর করে রক্ত পরছে। আর আয়না কাঁদছে। 

আয়না ঠিক আগের মত বাতি জালানোর সাথে সাথে মিসেস জাহেদের দিকে তাকিয়ে বলে, ও আরো রক্ত চায়। কিন্তু আমার না !

মিসেস জাহেদের ভ্রম ঠিক আগের মতই আয়নার কথায় ভাংগে।

– এই জন্যেই এই অলুক্ষনে আয়না ফেলে দিয়েছিলাম আমি। দে দে এক্ষুনি দে এটা আমার কাছে ।

বলে আয়নার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে আবার জানালা দিয়ে ফেলে দেয় ঠিক আগের মতই। পেছন থেকে আয়না না না বলে চিৎকার করতে থাকে।

রাগান্নিত ভাবে হাটতে হাটতে মিসেস জাহেদ তার বেডরুমে যান। যেয়ে টিভি ছেড়ে আবার আগের মত শুয়ে দেখতে থাকেন।

টিভি তে নিউজ হচ্ছে। এই মাত্র খবর পাওয়া গেছে শাহবাগে হঠাত বোমা বিস্ফোরনে গুরুতর আহত তিন এবং নিহত পাচ।

মিসেস জাহেদের স্বামি ভিকি জাহদের অফিস শাহবাগেই। সে তারাতারি মোবাইল হাতে নিয়ে স্বামির নাম্বারে ফোন করতে থাকেন। ফোন যাচ্ছেনা। বার বার ব্যাস্ত বলছে।

বৃশটি শুরু হয়েছে আবার। হঠাত ভীষণ জোরে বিদ্যুত চমকে উঠে। সাথে সাথে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার ঠিক আয়নার আয়নার মত মাজখানে ফেটে যায়। মিসেস জাহেদ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকেন। ড্রেসিং টেবিলের আয়নার ফাটা জায়গা থেকে ঝরঝর করে রক্ত ঝরতে থাকে। আবার জোরে বিদ্যুত চমকায়। আর সাথে সাথেই বাতি নিভে যায়। মিসেস জাহেদের মৃত্যু ভয়ের ভয়ার্ত চিৎকারে পুরো বাড়ি কেপে উঠে।

মোসাদ্দেক চা দোকানদার পান চিবুতে চিবুতে চা বানাচ্ছে। চা’য়ের কাপ দুটো সে কাস্টমারদের দিয়ে দাত খিলি দিয়ে পান খাওয়া দাত খোচাতে খোচাতে সেই আয়নার আয়না বের করে মুখের সামনে ধরে দাত খোচায় আর গান গায়, আয়নাতে তুমি অই মুখ দেখবা যখন…

(শেষ)

আগুন বাদল

উডান থেকা ঘাটিলা অনেক দূর, বাইর হইতে লাগছিলাম ।  
ছনছা বায়াও ধুমধুমায়া আগুনের মত বাদল !! আমার গায়ে পরে না । কইলজায় পরতাছে ! 

মা’য় কয় জাইছনা বাজান। কি করস !  
ওরে মা যাইতাছিনা, মনে কর আইতাছি ।কোচর কইরা মুড়ি দাও, না না চিড়া দিও ভিজলেও ক্ষতি নাই। বাদাম আছে ঘরে ? 

মা, একজনরে একটা কথা কইছিলাম। তোমারে কেমনে কই ! 
সাড়া পাই নাই। সাই সাই কইরা হেয় হইছিলাম । শরম করে নাই। করছে পীড়া। ভীষণরে মা ! 

ঘরে থাকবার মন চাইতাছেনা। আমারে মাফ কর, তুমিই কর 
আর কেউ করবোনা। 

আচ্ছা মা তুমি তো কইছিলা, মন থেকা যা চাইবি তা পাইবি । 
কিন্তু কার কাছে চামু মা’গো ? তুমি কি পাইছিলা ? 
কার কাছে ? ভগবান, আল্লাহ, নাকি ঈশ্বর ? 

এই দিগদারি তুমি বুঝবানা, আমিই শালায় বুঝতাছিনা ! 
হুশ পাইনা কি করা উচিত ! মা তুমি তো জানো কিছু না বুঝলেই চড়াই পাখির লগে যায়া কথা 
কই। কিন্তু এই বিয়াইন রাইতে তাগো পামু কই ? 

নিয়ারা-আকাই (অনুরোধ) তারে অনেক করছি, বুইঝাও বুঝে নাই।তার আছে বিশাল কিছু, যার কাছে আমি কিসসু কিসসুই নারে মা ! 

অরঘুমা রাইত গুলা শেষই হইতাছেনারে মা।  
দেও তো বাবার মাদুর টা দেও, দেও মা দোহাই লাগে । 
জানি তুমি অইটা কাছ ছাড়া করনা । তুবও দেওনা মা, দেওনা ! 

হালট ধইরা হাটতে হাটতে ক্লান্ত লাগলে অইহানে ঘুমমমম দিমুনে 🙃 ইশশ বাবার মতই যদি শেষ জিড়াইতে পারতাম মাদুরেই ! 

গরবাদ কইরা ফালাইছিরে মা ! সাইমজা থাইকো তোমরা সবাই।ভাইজান, ছোড, আর বইন্ডারেও কইয়ো। গরবাদ যেন না করে। গরবাদে আছে কুত্তা জালা গো…  

ধুমা ধুমা লাগতাছেরে মা, এর মদ্ধেই “উড়াল পঙ্খি”ডারে দেখতাছি ! মন কয়, যাইগা হের কাছে এহনই, কিন্তু আবার হেয় হমু যে ! 
ওরেও কয়ো সাইমজা সুইমজা থাকতে।তুমি তো ছিনোই তারে।ওর লগে দেহা হইলে তুমি যেমনে আমার কপালে আদর দিয়া দেও,এমনে একটু দিও মা, দিও হ্যা ? 🙂 

মা শরমের কথা। কিন্তু তোমারে তো কত কিছুই কই।অদৃশ্য টীপ, অদৃশ্য ! নাগো মা হেহে বাদ দেই এই কথা… 😊 

আগুন বাদল গায়ে পরতাছে যে ! কইলজা খায়া হালাইতেছেরে মা ! যাইগা ।অইযে চাঁদের আলো রে মা ! চাঁদের আলো ! এই ঘন বাদলেও দেহা যায় মা ! দেহো দেহো দেহো…কিন্তু আমারই তো না ওই দৈব চাঁদের আলো….

ও আমার উড়াল পঙ্খী রে যা যা তুই উড়াল দিয়া যা 
আমি থাকব মাটির ঘরে, আমার চোক্ষে বৃষ্টি পরে 
তোর হইব মেঘের উপরে বাসা…. 

মনে আছে ?

কিন্তু অদ্ভুত ! মনে করছিলাম, আরে ! আপন চিনছি তোরে !  
দেখসিলাম তোমার ঘুমমম, হাসি, চোখ আর ছলছল, 
মৃদু ছোঁয়া দিলেই হয়তো তা পরতো টপটপ । 

একটা নদী, 
মনে আছে ? অইযে নামহীন ত্রিভূজাকৃতি নদী’টা ? 
এখনো নাম দেওয়া হয়নাই “যে”…. হবে ! কবে ? 

যাইহোক, শুনো, শুনো না ! শুনো, 
তোর উষ্ণ কপালে অদৃশ্য টিপ । 🙂 
তখন না ! শুধু আমি না, সমগ্র জাহানই হইছিল 
শান্ত, নিবিড় ! সার্থক আমি অতিমানবের একারই এক দীপ !! 

আসসা যাইগা ।।।।