দূষিত দুপুর

দুপুরের একদম ভাল লাগছেনা । রেহানাকে দেওয়া ওয়াদা সে ভাংগেনি ।  কিন্তু আবার ভেংগেও ফেলেছে । দুপুর শান্তি পাচ্ছেনা । 

প্রায় চারকোনা ঘর তার । এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কয়েকটা এলোমেলো কাপড় । বেশ মোটা ম্যাট্রেস বা দেশীয় ভাষায় বললে, একটা তোষক মাটিতে বিছানো । যা কিনা ঘরের একমাত্র জানালার গারো নীল চারকোণা গ্লাসটাকে একেবারে মাঝখানে রেখে দেয়াল কর্ণার ঘেসে মাটিতে পাতা । ফ্লোরটায় তাকালে পুরান হলদেটে মোজাইক পাথর দেখা যায়। হলদে ফ্লোরটা এই চকচক করতে থাকা অতি আধুনিক ঘরটিকে যেন একটু সহজ বা ব্যালেন্স করেছে । ক্লাসিক ব্যাপারের উপস্থিতি যেকোন কিছুতেই যেমন নিমিশেই হালকা আপন-আপন অনুভুতি দেয় !  ঠিক তেমন আরকি  ! 

ইলেক্ট্রিসিটি নেই ৷ এই দিনেও এই অঞ্চলে কারেন্ট চলে যাওয়া দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্রতি বছর এই দিনে এই সময়ে ১১ মিনিটের জন্য বাংলাদেশ অঞ্চল বিদ্যুৎ ছাড়া থাকে। বিশ্বের প্রত্যেক অঞ্চল তাদের নিজেদের সুবিধামত এই বিদ্যুৎ বিহীন ১১ মিনিট কবে কখন হবে, তা বেছে নিয়েছে। সারা বছর নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য অঞ্চলগুলোর জন্য যা আবশ্যক ।

দুপুরের ঘরে জানালাটা মাঝখানে রেখে যেমন বিছানা মাটিতে বিছানো । নিজেকে তেমনি বিছানার ঠিক মাঝখানে রেখে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে ‘দুপুর আ্হসান’ ।  তার সামনের দেয়ালটিতে লাগানো বিশাল বড় আয়নার দিকে তাকিয়ে । আয়নার একেবারে মাঝখানে দুপুরের মুখটা দেখা যাচ্ছে। প্রচন্ড হতাশ আর বিষাদগ্রস্ত চেহারার দুপুর । বাম হাতে তার সিগারেট জ্বলছে কিন্তু সে ফুঁকছে না ।  সিগারেট না টানাতে এর ধোঁয়াগুলোও স্বাধীনভাবে নিজেদের ইচ্ছামত সৃষ্টি হয়ে পরে নিজেদের ইচ্ছামতই উরছে-ভাসছে, উবেও যাচ্ছে দুপুরের এই ঘরটাতে ।  অন্য সময় হলে দুপুর ধোঁয়াদের উদ্দেশ্য করে বলত, ‘mi casa es su casa’

দপুরের ঘরে দ্বিতীয়বারের মত আসা সকল অতিথিকে দুপুর এই স্প্যানিশ বুলিটি শুনায় । কেউ প্রশ্নবিদ্ধ অবাক চাহনী দিলে দুপুর বলে দেয়, ”মানে এইটার মানে ইয়ে… নিজের বাসা মনে করে বসো… আরাম করে  ম্যান… চীল ম্যান চীল !”

দুপুর দ্বিতীয়বারেই কেন অতিথিদেরকে নিজের ঘর বা নিজের বাসাকে তাদের বাসাই মনে করতে বলে ? কারণ দুপুর অযথা কেউকে ভুংভাং বা ফেইক কথা বলে খুশী করতে চাওয়া ব্যক্তিদের মতন না, একদমই । প্রথমবার সব অতিথিরা তার এই ঘরটাতে অতিথিই ।  তাদের সাথে মেহমানের মতই আচরণ দুপুরের তরফ থেকে হয় ।  আর দুপুরের এই ঘরটাতে কেউ দ্বিতীয়বারের মত আসলে এমন কেউই আসে, যে কিনা দুপুরের কাছে সত্যিই বিশেষ ব্যক্তি । যে কোন না কোনভাবে দুপুরের মনে-মনে আপন কেউ ! আর আসলেই দুপুর তাদেরকে তার নিজের ঘরে মালিকের মত থাকতে বলে ।  কথার কথা দুপুর বলে না । 

যাইহোক ! নিজেকে বারবার এই আয়নায় দেখা আজ সকাল পর্যন্তও অন্যতম প্রিয় কাজ ছিল দুপুরের। যাকে বদ অভ্যাসও বলা যেত । নিজের পারফেক্ট জো-লাইন ওয়ালা চেহারা । প্রায় এইট প্যাকওয়ালা শরীরটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানান ভংগি করে দেখা । আরো কত কি করত দুপুর, আয়নার সামনে এলেই ! কিন্তু এই মুহুর্তে আয়ানাতে দুপুর নিজের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন, সে নিজে না প্রতিবিম্বতে অইটা ! অন্য কেউকে দেখা যাচ্ছে যেন ওখানে ! কেমন যেন অচেনা চাহনী দিচ্ছে দুপুর, নিজের দিকে নিজেই ।

ও ! ঘরটিতে সব কিছু এরকম সব কিছুর মাঝখানে কেন ?  দুপুরের ঘরটি এমনই । এত সুক্ষ্ম ভাবে প্রতিটি আসবাবপত্র এবং জিনিসপত্র রাখা, যেই ঢুকবে প্রথমে বুঝতে পারবেনা, ভাববেই শুধু । ঘটনাটা কি এখানে ? নতুন বন্ধু-বান্ধবরা বা যে কেউই প্রথমবার দুপুরের ঘরে আসে। প্রথমে অনেক্ষন ধরে তারা বলতে থাকে, “ঘরটিতে কি যেন একটা কি রহস্য আছে!” কিন্তু  তা কি ? তারা খুঁজতে চেষ্টা করে ! বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুপুরই তাদের ধরিয়ে দেয় ব্যাপারটা । ঘরে আসা অতিথি অবাক হয়ে ঘরের এই জ্যামিতিক ব্যাপারটা উপভোগ করে।

রেহানাও যখন প্রথমবার দুপুরের ঘরে এসেছিল। ভ্রু দুটো কুঁচকে প্রতিটি জিনিস ধরে-ধরে ঘুরে-ঘুরে দেখছিল শুধু সে । যদিও মাত্র দুইবারই এসেছিল দুপুরের ঘরে রেহানা । প্রথমবার দুপুরকে অংক শেখাতে । পরের বার এসেছিল দুপুর রেহানার চেয়েও ভাল অংক জেনেও, কেন না জানার ভান করেছিল ? তারই কৈফিয়ত তলব করতে  !

প্রথমবার দুপুরকে ওর ঘরে এসে স্টাডি এবং দুপুরকে গনিত চর্চার জন্য একটা রুটিন করে দিয়ে যায় রেহানা । পাঁচ-পাঁচ দিন পর রেহানার মাথায় খেয়াল হয় “দুপুর হিসাবে এত কাচা হলে ঘর সুক্ষ্ম জ্যামিতির ন্যায় সাজালো কি করে !” জবাবে দুপুর রাগান্বিত রেহানাকে সত্যি কথাটিই বলে দিয়েছিল। “অনলাইনে রেহানার গণিত বিষয়ক ভ্লগ দেখে ওর সাথে যেভাবেই হোক অন্তত বন্ধুত্ব করার লোভ জন্মায় দুপুরের বুকে ! এই ই…”

সত্য স্বীকার করায় এবং আর জীবনেও দুপুর মিথ্যা বলবে না, দুপুরের কাছ থেকে এই ওয়াদা নিয়েই রেহানা দুপুরকে ক্ষমা করেছিল তখন । এইবার এবং শেষবারের মতন । এই মেয়েটি এতই সহজ-সরল আর এতই রিদয় দিয়ে সব কিছু চিন্তা করে এই যুগেও !  এইসব ভাবলেই দুপুরের বুকে কেমন যেন চঞ্চলতার  ঢেউ-ঢেউ দেওয়া আনন্দ জাগে ! এই মেয়ের জন্য তো সব কিছু করা যায় । করবেও সে। রেহানার মত মানুষের সংগ সারা জীবনের জন্য পেতে কে ই বা না চাইবে ? রেহানা ছাড়া অন্য কারো সাথে গণিত নিয়ে আলোচোনা করলে এক রকম লাগেনা দুপুরের । আগে বা পরে বহু লোকের সাথেই তো ওর গণিত বিষয়ক আড্ডা হয়েছে বা হয়। কিন্তু দুপুরের এই পুরো ইহ জীবনে কক্ষনোই এইযে এই বুকটায় এমন কেমন-কেমন মায়া-মায়া লাগা লাগেনি !

আচ্ছা আচ্ছা… দুপুরের ঘরের বিবরণে আরেকটু আসি । এতক্ষনে বিদ্যুৎ এসে পরেছে। ওর ভাত খাওয়ার সাদা প্লেটটি টেবিলের ঠিক মাঝখানে রাখা । উপুর করা প্লেটটির উপরে ঠিক মাঝখানে চকচক করতে থাকা তার কফি খাওয়ার সাদা মগ দেখা যাচ্ছে । ঢালাই বিছানার পর ঘরটিতে যে লিভিং স্পেইস রয়েছে তার ঠিক মধ্যখানে টেবিলটি রাখা ! উপরে ধবধবে সাদা সিলিং। তাতে ঝুলন্ত সলিড নীল সিলিং ফ্যান, ঘুরছে।  ফ্যানের সাঁই সাঁই শব্ধ তাল দেওয়ার মত শব্দ করছে , লুপ হয়ে । এই লুপ হওয়া শব্দ তাল হয়ে জ্যামিতিক ঘরটির আবহমন্ডলকে গাণিতিক হওয়ায় আরো বেশি করে বুঝি সাহায্য করছে । একবিংশ শতাব্দির ঢাকাইয়া মানুষ কেউ ঘরটিতে আসলে হয়তো বলেই ফেলতো, “হালায় ! আনাম ঘরবি হালায় হিছাব করবার লাগছে দিহি…”

হালায় জাতীয় অথবা এরকম গালি শ্রেণীর কথা-বার্তা ভাষায় ব্যবহারে *সিস্টেম এখন অনুৎসাহ করে যদিও ! তবে খাশ পুরান ঢাকাইয়া ভাষা অই অর্থে আসলে এখন কেউ ব্যবহার করেনা ।  তবে সোশাল মিডিয়ায় উঠতি তরুণ সমাজ তাদের নানান বচনে আগের দুই একটা ভাষার প্রয়োগ করছে ।  ব্যাপারটা খারাপ নাকি ভাল দুপুর তা নিয়ে হাল্কা কনফিউসড ! সে ওয়ার্ল্ড সিভিলাইজেশন কোর্সে জেনেছিল, উঠতি বয়েসী সমাজ সবসময়ই প্রচলিত ভাষাকে নিজেদের মত করে বিকৃত করে আসছে । যা কিনা এখন খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার ।

তবে আদিম সমাজের মুরব্বিরা সহজে তা মানতে নারাজ ছিল । এখন মুরব্বিরা তরুনদেরও আগে সিস্টেমের বৈজ্ঞানিক ব্যাখা মিশ্রিত বাণীসমূহ মেনে নেয় ।  কেননা, সিস্টেমের কথা অমাণ্য না করে, উনার দেখানো পথে চলে, কেউ যদি নিজের জীবনের গোল্ডেন জুবিলি, অর্থাৎ পঞ্চাশ বৎসরে পা দিতে পারে ।  তার জন্য সিস্টেমের তরফ থেকে রয়েছে বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে লোভনীয় অফার্ড উপহার । মার্স, মানে মংগল গ্রহের আদিবাসী হওয়ার সুযোগ । সেখানে যেকোন বয়স্ক নারী/পুরুষ এক বছর কাটালেই নাকি পৃথীবির যুবক আদিবাসীদের ন্যায় দেহে বল-বুদ্ধি এমনকি পূর্ন যুবাবস্থাও কারো-কারো ক্ষেত্রে ফিরে আসে ! এক যুগ আগেও বয়স্কদের বলা হত ‘তোমার এক পা তো কবরে!’ এখন বলা হয়, ‘তোমার এক পা তো মংগলে!’ 

বাংলাদেশের কয়েকটি আদি আঞ্চলিক ভাষা গত দুই দশক ধরে প্রিজার্ভ করা হচ্ছে । ওল্ড ঢাকাইয়া ভাষা এর মদ্ধে একটি । স্পীডি গ্লোবালাইজেশনের ফলে পুরো পৃথিবীর ভাষা ধীরে-ধীরে প্রায় কাছাকাছি রকমেরই হয়ে যাচ্ছে । আরো হবে। এখন শুধু বিশ্বের এক জায়গার ভাষা থেকে আরেক জায়গার ভাষায় শুধু উচ্চারণের তারতম্যই রয়েছে । এমনও অনেক জায়গা আছে যাদের উচ্চারণ শুনলে মনে হয় যেন আলাদা ভাষায়ই তারা কথা বলছে ! তো উচ্চারণের তারতম্যের কারণে ধীরে ধীরে নতুন ভাষার যে উৎপত্তি হবে তা কি সিস্টেম জানেনা ?  আগের ভাষাগুলোকে বিলুপ্ত করার কারণই বা কি?  দুপুর একদমই বোঝেনা ! 

লো (LOW) বা ল্যাংগুয়েজ অব অল্ড ওয়ার্ল্ড নামক সংস্থার অধীনেই মুলত এই কাজ হচ্ছে । ভাষার প্রিজার্বেশন নিয়ে বাংলাদেশ নামক এই ছোট্ট অঞ্চলের নেইটিভদেরই (আদিবাসীদের) একটু বেশি বারাবারি ছিল । এর আগে নব্বই শতকে এরা মানুষে-মানুষে মনের ভাব প্রকাশ করার আওয়াজ রক্ষার উদ্দেশ্যে নাকি লড়াইও করেছে । দুপুর বুঝতে চেয়েও বোঝেনা ! অপর পক্ষের ভাব প্রকাশ করার পন্থা, তা যেমন আওয়াজই হোক । বুঝতে পারলেই তো হল !  এর ক্ষাতিরে লড়াই করেছে আদিম মানুষ ! 

তবে পুরান ঢাকাইয়া ভাষাটা দুপুরের একটু বেশিই ভাল লাগে । আপন-আপন লাগে ।  আর প্রচন্ড পরিমাণে আপন লাগা কিছু না হারানোর তাগিদে লড়াই করাই যায় ।  দরকারে জীবন দেওয়াও যায় !  দুপুরের মন তা বুঝতে পারে ।  কিছুটা টের সে পায় । 

একটা নীল মাছি দুপুরের নাকের ডগায় বসতে চাইছে । কিছুক্ষন উরা-উরি ভন-ভন করে যেইনা বসল ।  দুপুর উঠে ভরকে ! লাফ দিয়ে সতর্ক হয় সে । জর বস্তুতে যেন হঠাৎ প্রাণ এসেছে এতক্ষনে ! বিছানায় বসে ল্যাপটপ হাতে নিয়ে কিছুক্ষন কি যেন টিপাটিপি করে শেষে রাগে ল্যাপটপটি আয়নায় লক্ষ করে ছুরে মারে সে । ঝনঝন করে ভেংগে পরে আয়না ।  ভাংগা কয়েক টুকরা ঝুলে থাকে দেয়ালে। পরমুহূর্তেই বিছানা থেকে উঠে রুমের আরেক পাশের দেয়ালের মাঝখান বরাবর রাখা ওয়্যারড্রবের একেবারে নিজের ড্রয়ার খুলে সে । কিছু কাগজ-পত্র বের হয়ে আসে । অনেকগুলো কাগজের তন্ন-তন্ন হওয়ার পর নিজের কিছু একাডেমিক সনদ আর জন্ম নিবন্ধনের কাগজ হাতে আসে দুপুরের । কাগজ গুলো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে থাকে দুপুর । ছিরে ফেলে টুকরো-টুকরো করে সবগুলো কাগজ দুপুর এক-এক করে । এইদিকে টুকরো-টুকরো কাগজ ।  আর অইদিকে টুকর-টুকরো ধারালো কাচ ।

দুপুর এখনো শকড! সাতাইশটা বছর নিজের এই শরীরের সাথে এই শরীরটা নিয়ে বসবাস করে নিজেই নিজেকে সে চিনতে পারলোনা !  একটা সামান্য ধাতুর কাছে তার নিজেকে চিনতে হল ! জানতে হল!  আবার এমন করে, এমনই মুহুর্তে ! 

আসলে দুপুরের হয়েছিল কি ? পেছনের কারণ ভয়াবহ !  আবার তেমন কিছুই না এই কারণ ! যে যেইভাবে নেয় আরকি ।  মানুষ যেইভাবে নিক, তা পরের ব্যাপার ! দুপুর নিজেই নিজেকে মেনে নিতে পারছেনা ।  ঘটনা হল…

দীর্ঘ তিন মাসের প্লান করে আজ সকালে যমুনা ফিউচার পার্কের মত ভরা মজলিশে তার ভালবাসা নিজের জীবনের সব চাইতে প্রিয় এবং আপন একটা মানুষ রেহানাকে অবশেষে সাহস করে প্রপোজ করেই ফেলে দুপুর । 

সাধারণতই রেহানা প্রথমে ভরকে যেয়ে, পরে অবাক হয়ে শেষে মুগ্ধতা নিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে। এইরকম সীন এইরকম জায়গায় ঘটলে যা হয় । তাই হল । তাদের ঘীরে গোল হয়ে উঠে মানুষের ভীর । জমে উঠা দর্শকের ঢল এই দুপুর বেলায় দুপুরকে আরো চাংগা করে তোলে ।  এরপর রেহানার খুশীতে ফেটে পরা কাঁদো কাঁদো চেহারা চাংগা হওয়া দুপুরকে খুব নায়ক-নায়ক একটা ফীল দিতে থাকে । মুহুর্তেই দুপুর এক হাটু গেরে সিনেমায় দেখা নায়কের মত করেই বসে পরে রেহানার দরবারে । ঠিক নায়কদের মতই রেহানাকে চিৎকার করে দুপুর আবার বলে, Will You Marry Me, Rehaana ?

রেহানা কিছু একটা বলে জবাবে ! শুনতে পায়না দুপুর । মিস হয়ে গেল ! নিশ্চয়ই Yes বলেছিল ।  কারণ পরপরই চারদিকের মানুষের উল্লাস ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে পরে চারদিক । অনেকেই মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিল এই দৃশ্য ।  পরে রেহানার মুখের Yes বলাটি কারো না কারো ভিডিওতেই দেখে নিবে দুপুর । হাস্যজ্বল রেহানাকে সবুজ পাথর বসানো আংটিটি আংগুলে পরিয়ে দিতে দিতে ভাবে দুপুর ৷ রেহানার দুই চোঁখে ছলছল করছে পানি । 

এখন দুপুরের পরবর্তি কাজ হবে নায়কের মত দাঁড়িয়ে রেহানার ছলছল আঁখি দুটো মুছে দিয়ে বীরের ন্যায় প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে ধরা ! ওদের দুজনের মত আশেপাশে জমে উঠা পাবলিকও ভীষণ উত্তেজিত ! তারাও যেন রেহানা-দুপুরের খুশীতে সমান খুশী !  

কিন্তু একি !  দুপুরের হাটু নড়ছেনা কেন ? আয়হায় ! হাটু যে দেখি মাটির সাথে জোড়া লেগে গেছে যেন ! আশেপাশের জমে উঠা জনগণ ফুটো বেলুনের মত চুপসে যেতে থাকে । এখন দর্শকরা যা করছে সেটা হচ্ছে একে-অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ী আর সাথে গুনগুন । এর ভেতর থেকে একজন লাল ক্যাপ পরা লোক মোবাইল দিয়ে ভিডিও করতে করতে দুপুর আর এখনো থমকে ‘থ’ হয়ে থাকা রেহানার দিকে এগিয়ে আসে ।

ভিডিও করতে করতেই লাল ক্যাপওয়ালা কথা চালিয়ে যায় তার নিজের ভ্লগের দর্শকের উদ্দেশ্যে, “দর্শক মন্ডলি ঘটনায় নতুন টুইস্ট ! এই মাত্র প্রমাণ সহ যা বুঝতে পারলাম, আমাদের এই প্রেমিক আসলে is not a real প্রেমিক ! এটি আসলে একটি ফার্স্ট ক্লাস রোবট ।  দেখুন !  দেখুন এই যে, রোবটটির মেটালিক হাটু যমুনা ফিউচার পার্কের ফ্লোরে লাগানো ই-চুম্বক কিভাবে আটকিয়ে রেখেছে ! ইদানিং ছোট-ছোট রোবট গাড়িগুলোর হাত থেকে কাস্টমারদের মানিব্যাগ এবং মূল্যবান সামগ্রির চুরি হওয়া রোধ করতে বসানো ইলেক্ট্রিক ম্যাগনেটিক ফ্লোর ! আজ দেখুন এই ফ্লোর কোন চোর ধরেছে ! কি ভয়ানক ! দেখুন ভিউয়ার্স ! বৈজ্ঞানিক এই ভয়ানক আগ্রাসনের ভয়াবহ রূপ দেখুন !  এতদিন টাকা-পয়সা মেটালস নানান মূল্যবান সামগ্রি এই রোবটদের হাত থেকে বাঁচানোর কথা ভাবতাম আমরা ।  আজ থেকে দর্শক আপনি আপনার ঘরের মা-বোনদের এদের হাত থেকে বাচানোর দুঃচিন্তা শুরু করুন  ! ভাইয়েরা, এইযে দেখুন এই অসহায় বোনটিকে ।  কি নাজেহাল অবস্থা হয়েছে বোনটির। গাইজ! ফার্স্ট ক্লাস তুচ্ছ যন্ত্র, সামান্য একটি রোবটের জন্য…”

লাল ক্যাপ ভ্লগার রেহানার দিকে তার ক্যামেরা নিতেই রেহানার এতক্ষন যাবত থমকে থাকাতে হুশ আসে । হাত দিয়ে রেহানার সরিয়ে দেওয়ায় লাল ক্যাপ ভ্লগারের ভিডিও করা কোনভাবে চাপ লেগে বন্ধ হয়ে যায় । এই পর্যন্তই ধারণ হওয়া লাইভ ভিডিওটি এরই মদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় । যেখানে বেশিরভাগ কমেন্ট এরূপঃ ”রোবট হয়ে ভালবাসার ফিলিংস পেলো সে কি করে !  কোথা থেকে ?” … “সিস্টেম কবে থেকে রোবটে ইমোশোন দিতে সফল হল… ?” “কিভাবে তাদের অঞ্চলে-অঞ্চলে উন্মুক্ত করে দিল সম্মানীত সিস্টেম ?” একজনের কমেন্ট তো এমনও ছিল যে, “গত সপ্তায় তার ফুফু তবে প্রতিবেশি রোবটটির সাথেই ভেগে গিয়েছিল ” ব্লা ব্লা ব্লা…

দুপুরের প্রপোজের ঘটনায় আসি।
অইযে তখন !  হাত দিয়ে সেই লাল ক্যাপ ভ্লগারকে সরিয়ে দেওয়ার পর রেহানা নিজেও দুই হাটু গেরে বসে পরেছিল দুপুরের সামনে । একদম চুপ হয়ে যাওয়া অবাক চেহারার দুপুরের মাথাটা নিজের বুকে জড়িয়ে, লুকিয়ে ফেলে তখন রেহানা । হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে যমুনা ফিউচার পার্ক মার্কেটের কতৃপক্ষকে ম্যাগনেটিক ফ্লোরের সুইচ এক সেকেন্ড এর জন্য অফ করার অনুরোধ করতে থাকা, রেহানার-দুপুরের সেই মুহুর্তের ভিডিও করেনি কেউ । করলেও বাজারে, মানে কোন মিডিয়ায় ছাড়েনি। ছাড়লে যুবক রোবটটির একমাত্র আপনজনের বুকে আশ্রয় পেয়ে । প্রেমিকার ওড়নায় লুকিয়ে। আশেপাশের মানুষদের দিকে ভয়ার্ত শিশুর ন্যায় অল্প-অল্প করে তাকাতে থাকা, গোলগোল চোঁখ দুটিও তারা দেখতে পেতো !

হয়তো দেখতো না !  তবে ভাইরাল হলে, অবশ্যই দেখতো । তখন একটু সুন্দর করেই *দূষিত হত আজকের দুপুর !!

শেষ

* সিস্টেমঃ সরকার বিহিন কম্পিউটারাইজড বিশ্ব নীতি-নিয়ন্ত্রক ।

* দূষিত দুপুরঃ ভাইরাল দুপুর । 

নশ্বর

হাওয়া, তোমার আবিষ্কৃত রেসিপির আইস্ক্রিমটা যদি এখন খাইতে পারতাম ! ১৯৮২ সালে বের হয়েছিল, এমন একটা সিডি প্লেয়ার ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে করতে বলল আদম। তোমার ডিলারের কাছ থেকে আজকে তাজা জিনিস আনার কথা ছিল। হাওয়া উত্তর দেয়। হাওয়া আরো বলে, আর তাজা ‘ও নেগেটিভ’ রক্ত ছাড়া আইস্ক্রিম ভাল লাগেনা তুমি জানোই !

সব জায়গায়ই দূষিত রক্তরে হাওয়া। আর ভাল্লাগেনা বাল! আর ডিলার বাইঞ্চোদটাও ফোন ধরতাছেনা! রাগে আরো জোরে সিডি প্লেয়ার পরিষ্কার করতে থাকে আদম।

এই একুশ শতকে এমন হবে তা আমরা আগেই জানতাম আদম! কিছুতো করার নেই আমাদের। আমরাতো বাড়ি বাড়ি যেয়ে তাদের বিশুদ্ধ খাবার খাওয়ার দাওয়াত দিতে পারিনা!

আদমের রাগ যেন আরো বাড়ছে, সিডি প্লেয়ার রেখে এখন সে তার সবচেয়ে প্রিয় ১৮৩৪ সালের  “সি.এফ. মার্টিন” গিটারের উপর হাত বাড়ায়। আর কতবার ওর বই পড়বা? একটু যেন রাগ করেই বলে আদম। আমারতো মনে হয় তুমগো মদ্ধে আসলেই তখন কিছু একটা ছিল!

হাওয়া আল্লাদে হিহি করে এসে উঠে বন্ধু মিগেলের লেখা “ডন কীহতে” (Don Quixote) পড়তে পড়তেই। আদমের এই ধরনের বাচ্চামো তার ভালই লাগে। যদিও ওর থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর ছোটই আদম।

হাওয়াও আদমকে খোঁচা না দিয়ে ছাড়েনা। বলে, গত একশ বছর ধরেই দেখছি রাগ উঠলেই এই গিটারটাই তোমার বাজাতে মন চায়, আরো তো অনেক গিটার আছে তোমার! মার্টিন,এর বাসায় যেয়ে যে দিন রাত পরে থেকে এই গিটার বানিয়েছিলে আমার কথা ভুলে গিয়ে তা কি আমি ভুলে গিয়েছি নাকি?

বন্ধু মার্টিনকে মনে পরতেই আদমের মনটা ভাল হয়ে যায়। কেবিনেট মেইকার প্রতিভাবান বন্ধুকে অনেক বলেও নিজেদের দলে নিয়ে আসতে পারেনি বলে আফসোসই করতে থাকে। আর বলে,

জানো! এখনো যে ভালবাসা জিনিসটা এই শালায় নশ্বরদের অনেকের মদ্ধেও কেমনে বাইচ্চা আছে তা আমার মাথায় খেলেনা!  আর ৫০ বছর পর তো মনে হয় রক্ত আর ভালবাসা কোনটাই থাকবোনা। তখন আমাগো কি হইব?চিন্তা করেছো বউ? 

ভয়ে তিন দিন ধরে তাজা রক্ত খেতে না পারা হাওয়ার দূর্বল হাত পা গরম হয়ে আসে। ক্লান্তিতে চোখ লাল লাল দূতি দিতে থাকে…

“Only Lovers Left Alive (2013)” সিনেমা থেকে অনুপ্রানিত।।

আদিখ্যেতা

রাস্তা দিয়ে হাটঁছিলাম… কাকে যেন,
কয়দিন আগেই ! বলছিলাম,
আদিখ্যেতা দেখলে গা জ্বলে !
অইযে ! প্রেম করছে বলেই, দেখাতে হবে ?
ভাই ! থাক একটু রেখে-ডেকে… চুপচাপ !

রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম… কাকে যেন,
গুনগুন করে গুনছিলাম ! ফিরবে কবে ?
আদিখ্যেতা দেখলে গা জ্বলে !
সেইযে ! গেলে তুমি বাড়ি ! তোমার সাথে আড়ি !
তুই ! আয় তারাতারি… আগে খুব ভুল ছিলাম !

চাঁদ-টাঁদ…

এইযেহ !
নেও ধর, তোমার চাঁদ
পাইরা নিয়া আইসা পরছি ।।
কই… কই… ?
ধর-ধর-ধর হেব্বি ভারি… তাত্তারি !
এখন যাও, একটু চাঁদ-টাঁদ ভাইজা খাও…

.
.
.

মিছা কইছি… 🤪 চাঁদ এখন এইযে এই ফেইসবুক পেইজেই কিনতে পাওয়া যায়ঃ https://www.facebook.com/techworkshopbd/

( Tech Workshop BD )

শূন্য খালি…

মাথার ভেতরে আমার বিশাল
একটা আকাশ আছে ।
আমি’ই তা খুলতে পারেনা । 
মনের ভেতর গভীর সাগর ।
আমি এখন আর স্বীকার’ই করেনা !
কালো কলিজা’টা বিরাট চুম্বক । 
মাস্টার ওস্তাদজীরা কোনদিন
নিজের দিকে টানতে শেখায় না । 

আকাশ খোলা হেলান দেওয়া,
গভীর জলে ডুইব্বা যাওয়া,
মনে মনে আকর্ষণে !  লাগবেনা তার,
বরং, আজ আমি যা পারি তা
গিলতে গিলতে সব খাওয়া ।। 
মাটিতে-মাটিতে যুদ্ধ করার এবং জেতার
বুদ্ধি করছি…. মাঝে মাঝে এ দ্বন্দ্ব মোছার
ডাস্টার খোঁজার ভানে, আর না পাওয়া !

নিজেই নিজের হজম শেষে । 
শূণ্য খালি সবই হাওয়া… 

ডানপক্ষ = বামপক্ষ

ছোটবেলার,
‘আমরা জানি’ আর ‘মনে করি’

কতটুকু জানতাম ? মনে কতটুকুই করতাম ?
আসলটাই জানতাম ? মানে,
কিভাবেই বা জেনেছিলাম ?
জানিয়েছিল যারা, নয় কেন তারা !
আমরা’ই কেন প্রমাণ করতাম ?
ডানপক্ষ = বামপক্ষ করার, যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা ।
আঙ্গুল ধরে, মনোযোগের সাথে শিখতাম !

এই জানায় জানা-জানি… বছরের শেষ ।
হিসাব-হিসাবে কষা-কষি… আর কয়েক
দশক… চলছে বৈকি ! পাশ নাম্বার পাইছি !
কত্ত মজা ! হাসা-হাসি…

আহারে জীবন… আহার মাটির ।।
এখনো’তো খুব্ব বাকি…
বুড়া-বুড়ির ফোকলা দাঁত । আর…
মুচকি হাসি… !

এখন, আমরা কেমন জানি ?
আর কি, কি কি মনে করি ?
আবারো, ‘প্রমাণ’ করতে… হবে নাকি ?
পাশ নাম্বার ? ছিল কততে জানি ?

বামপক্ষ আর ডানপক্ষ, সমানে-সমান হল,
সবাই তো খুব্ব জানি-পারি ।
সচেতনে জানোয়ার হইতে’ই হবে…
যেভাবেই হোক ! এই হওয়ায়, যেন না হারি !

তো, সমান ওদের, মিলন করতে পারছো নাকি ?
এখন দেখি ! বাব্বাহ ওরা-ওরাই… পারদর্শি !
সমান সমান চিহ্ন-চিহ্নে মুখ, কালা-কালি ।
ভাই-বেরাদার আলাদা লাঠি, বিয়োগ-বিবাগী…
বামে-ডানে-ডানে-বামে, যুদ্ধে-যুদ্ধে রক্তা-রক্তি ।।

হেহেহে, খাইছেরে ! ঘুমাও, তুমি… ঘুমাও !!
আমি ? বাইচ্চা যামু ।। যদি, যাইগা আমি…

ফেইসবুকের দোআ

অ্যা… ফেইসবুকে লগ-ইন এবং লগ-আউট করিবার দোআ’র প্রয়োজনীয়তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক ।

ফেইসবুকে প্রবেশ করিবার সময়, ‘বাম হাতের যেকোনো আংগুল দিয়া লগ-ইন বাটন চাপ দিয়া এই দোআ পড়া নিরাপদ… … … …

তদ্রুপ,
ফেইসবুক হইতে বাহির হইবার সময়, ‘ডান হাতের যেকোনো আংগুল দিয়া লগ-আউট বাটন চাপ দিয়া এই দোআ পড়া নিরাপদ… … … …

যেহেতু দোআ নাই । সেহেতু, আপাতত ফেইসবুকের কাছাকাছি আরো একটা জায়গা বাত্তুম । মানে, টয়লেটে ঢুকিবার এবং বাহির হইবার দোআ আশা করি ভাল ফল দিবে ! বাম হাত দিয়া প্রবেশ করা এবং ডান হাত দিয়া বাহির হওয়া যেন ভুল না হয় !

সুবিধা বঞ্চিত ওঁরা…

পৃথিবীর সবচেয়ে সুবিধা বঞ্চিত জন গোষ্ঠী বা কমিউনিটি হচ্ছে “নেশাখোর কমিউনিটি” । একমাত্র উঁনারাই সুবিধা থেকে তো বঞ্চিত বঞ্চিত’ই ! এমনকি কোন না কোনভাবে নিজেদের সুবিধা নিজেরা করে নিলেও দুই দিন পরেই সেই সুবিধাও তাঁদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় ।

একমাত্র উঁনারাই যুগ যুগ ধরে নানান ( মানে অবশ্যই নানান । বহু বহু বহুত… ) ধরনের প্রতিকুলতার মাঝেও টিকে থেকে অদম্য উদ্যমের সহিত নিজেদের বুদ্ধিমত্তা খরচ করে নিজ নিজ নেশার চাহিদা পূরণ করে বা মিটিয়ে যাচ্ছেন ।

তবুও দেশে-দশে সমাজে-সুমাজে তাঁরা অবহেলিত, ধিকৃত এবং উক্ত আলোচনা হইতে বলা’ই যায় যে, ‘ওঁরা নির্যাতিত’…

ঠিক নাকি ঠিক ?

ঃ কি ! ঠিক বলছি নাকি সত্য কইছি ?
ঃ জী সত্য কইছেন…
ঃ কথাডা তাইলে ঠিক বলি নাই ?
ঃ অবশ্যই ঠিক বলছেন…
ঃ তারমানে সত্য কইনাই ?
ঃ ভুল হয়া গেছে ! মিথ্যা বলছি…


ঃ এইবার তুমি সত্যি বললা !

বিদ্যুৎ ভূত 👻

ভূতুরে বিদ্যুৎ বিল পরিষোধ করতে করতে ফকির হয়া, আমরা জনগণরা’ই একসময় কর্তৃপক্ষের হাতে-পায়ে ধইরা বলতে বাধ্য হব যে, করেন করেন আজকেই সুন্দরবনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেন, বেশি বেশি । অই অইযে… অইখানের জংগল’টা কেন শুধু শুধু পইরা আছে ? অইখানেও করেন না কেন উৎপাদন ! আমার দাদার একটা গেন্ডারির জংগল আছে, অইটার প্রয়োজন পরলে জাস্ট একবার শুধু বলবেন । তবুও স্যার আগামী মাসের বিলটা যেন স্যার কম আসে । আমার আপণ দাদার নাতী, আমি নিজে আগে বাইচা নেই ! আমার নিজের আপকামিং আপণ নাতীর মায়রে বাপ ।।

রাজী করানের বুদ্ধিটা ভাল সার । বুদ্ধিটা ধরতে পারছি আমি ( আমরা ) । কিন্তু কমুনা, কমুনা স্যার… আপনে… সরি সরি ‘আমি’ অবশ্যই আপনের গোলাম । ( এইখানে কানে ধরার একটা ইমোজি লাগবো, নাই কেন ?  নাকি আছে ?  )

কিন্তু ‘আমার মতে’ আমি ছোড থাকতে যে একটু পর পরে লোডশেডিং দিতেন আমগো পড়ার টাইমে । তা’ই দেন । কত কিউট ছিলেন আপনেরা সকল সরকার সাবেরা তখন ! কত্ত মজার ছিল স্যার পড়ার সময় এক একটা কারেন্ট যাওয়া ! লোডশেডিংয়ের দিন গুলা মিস’ই করি আমরা । সত্যি সত্যি কইতাছি স্যার ! আমার তো এই জেনারেশনের পিচ্চি-কুচ্চি পোলাপাইন পড়ার সময় লোডশেডিং পায়না দেইখা তাদের জন্য মায়া’ই লাগে স্যার !

ওগো স্যার ! লোডশেডিংয়ের সময় দুষ্টু-দুষ্টু শয়তান ভূত দেখা অনেক ভাল ছিল । দিনের ফকফকা আলোয় এখন পাওয়া বি-ই-ই-ই-শা-আ-আ-ল বড় খুব ভদ্র ভূতুরে বিদ্যুৎ বিলের চেয়ে…