শূন্য খালি…

মাথার ভেতরে আমার বিশাল
একটা আকাশ আছে ।
আমি’ই তা খুলতে পারেনা । 
মনের ভেতর গভীর সাগর ।
আমি এখন আর স্বীকার’ই করেনা !
কালো কলিজা’টা বিরাট চুম্বক । 
মাস্টার ওস্তাদজীরা কোনদিন
নিজের দিকে টানতে শেখায় না । 

আকাশ খোলা হেলান দেওয়া,
গভীর জলে ডুইব্বা যাওয়া,
মনে মনে আকর্ষণে !  লাগবেনা তার,
বরং, আজ আমি যা পারি তা
গিলতে গিলতে সব খাওয়া ।। 
মাটিতে-মাটিতে যুদ্ধ করার এবং জেতার
বুদ্ধি করছি…. মাঝে মাঝে এ দ্বন্দ্ব মোছার
ডাস্টার খোঁজার ভানে, আর না পাওয়া !

নিজেই নিজের হজম শেষে । 
শূণ্য খালি সবই হাওয়া… 

অদ্ভু – দূরে…

ঘুমের থেকেও অনেক দূরে 
শূন্য থেকেও শূন্যান্তরে। তা  
বিপদজনক হলেও, এই 
নকল সুরৎ সস্তা ভীষণ ।। 

অদ্ভু-দূরে,  
অসহ্য কেবল, দুই এক এর মাঝে কাচের পাথর । 
অদ্ভু-দূরে,  
ঘোরলাগা সুখ, দুই এক এর মাঝে অকৃত্রিম আদর । 

অবাক করা, নিষ্ঠুর নীলে 
আবছায়াতে শীতল চাদর ।  
সম্ভাবনা নয়, অসত্যি হলেও 
কল্প থেকেই তো গল্পের প্রসব ! 

অদ্ভু-দূরে, 
কান্না চরম, দুই এক এর মাঝে যুদ্ধ ভীষণ ।  
অদ্ভু-দূরে, 
বদ্ধ হৃদে, দুই এক এর মাঝে অসার অহং । 

ঘুম ঘুম ঘুম দূর, 
দূর দূর দূর ঘুম ।।  
দূর…. 

ভালবাসা ছড়াক, ঘৃণা নয়…

আপনার ধর্ম কতটা সুন্দর জীবনের কথা বলে । কতটা মানুষের ভাল করার কথা বলে । ধর্ম’টা সেইভাবেই পালন করে অন্য ধর্মের মানুষকে দেখিয়ে দেন । আপনাকে দেখে যেন অন্যে ধর্মের মানুষ আপনার ধর্ম সম্বন্ধে আগ্রহী হয় । জানতে চায় ।

আপনাকে দেখে যেন ভাল লাগে অন্য ধর্মের মানুষের । আপনাকে জানতে চাইলে অবশ্যই আপনার সাথে বন্ধুত্ব করা দরকার । তারমানে দুইজনই বন্ধু হয়ে গেলেন ! এইবার আদান-প্রদান করুন ধর্মের ভাল দিক। বন্ধু না হয়ে কোনদিন’ই তা সম্ভব না ।

চিৎকার করে – রাগ দেখিয়ে – ভয় দেখিয়ে এমনকি অনুরোধ করেও আপনি আপনার ধর্মের প্রতি আগ্রহি করতে পারবেন না কেউকে । আপনার ধর্মের শ্রেষ্ঠতা প্রকাশ করুন ভালবাসা দিয়ে, ঘৃণা দিয়ে নয় ।

চিৎকার করে অন্যের ধর্মের নামে বাজে কথা বা ঘৃণা ছড়ানো বন্ধ করুন । অন্য ধর্ম নিয়ে যে কোন বাজে কথা আস্তে আস্তে বা মনে মনেই বলা থেকেই নিজেকে দূরে রাখুন । একটু সৃষ্টিকর্তার দেওয়া চিন্তাশক্তি কাজে লাগিয়ে দেখুন । আপনার নিজের ধর্মের নামে বাজে কথা ছড়ানো লোক’কে বা ধর্ম’কে আপনার নিজেরও ভয় লাগার কথা । ঘৃণা করার কথা !

মানুষে-মানুষে যুদ্ধ আপনার সৃষ্টিকর্তা দেখতে চায় ? নাকি মানুষে-মানুষে বন্ধুত্ব ? নিজেকেই জিজ্ঞেস করুন… 🙂

শুধু আমার’ই দোষ ! তাই না ?

“তপু ! তপু তুই কই ? এই তপু ?”

তপুর মা তবুও তপুর জবাব পায়না । বাড়ান্দা, টয়লেট কোথাও খুঁজে না পেয়ে তিনি স্বামীকে যেয়ে ধমকাতে থাকেন । তপুর বাবা টেলিভিশনে খবর দেখছিলেন । এর মদ্ধে, “তপু কোথায় গেল ? ছাদে কি গেল নাকি ? আমি রান্নায় ব্যস্ত এর মদ্ধে তোমার ছেলে কোথায় গেল খেয়াল রাখবানা ? খবর দেখে দেখে কি পৃথিবী পরিবর্তন করে ফেলবা ? নাকি নিজের পৃথিবী নিজের ঘর’টা ঠিক রাখবা ?”

“আহা ! ছাদে যায়া ঘুড়ি উড়াইতাছে হয়তো । দাঁড়াও এক্ষনি কান ধইরা নিয়া আসতাছি” বলে বাবা টিভি অফ করে উঠে যান । “ছেলের কান না শুধু, নিজে কান ধরে ছাদে যান আপনিও, একটা ছেলে এইটারে দেইখা রাখতে পারেনা, আবার আরেকটা…” বউকে পরের কথা বলার আর সুযোগ না দিয়েই তপুর বাবা নিজের কান ধরে স্ত্রী’র দিকে মুখ করে তাকিয়ে তাকিয়েই, পেছনের দিকে রোবটের মত হাটঁতে থাকেন, কমেডির মত ভংগি করে ।

ছাঁদ থেকে তপুর বাবার কল আসে তপুর মা’র নাম্বারে । “ছাঁদ তো পুরা ফাকা, কেউ তো নাই !” আতঙ্কিত আর আন-ইজি গলার স্বর শুনা যায় । মা’য়ের মুখ রাগে লাল হতে থাকে । কিছু বলতে নেয় । এর মদ্ধেই রান্না ঘরের পাশে ঝুলানো ফ্ল্যাটের কমন লেন-ফোনের ক্রিং ক্রিং শুনা যায়। “তোমার ছেলে যদি আবারো বাইরে যায়না…!” এইখানে এই কথা শেষ না করেই তিনি ক্রিং ক্রিং শব্দ লেন-ফোন কানে লাগিয়ে থামান ।

একটু পরে । তপুর কান ধরে বাবা ওকে নিয়ে বাসায়, মানে ওদের ফ্ল্যাটে ঢুকেন । মা যেয়ে তপুর গাল বরাবর যেই না থাপ্পর’টা দিতে নেয় তখন’ই বাবা বলেন, “আরে আরে নো নো, নো ভায়োলেন্স ! পৃথীবি দেখোনা এখন ভায়োলেন্স অশান্তি বন্ধ করতে বলতেছে ? তপু পাবে এখন ভায়োলেন্স বিহিন শাস্তি ! দেখো ওর আজকে খবরই আছে, কত্ত বড় সাহস! বেট্টা…!” তপুর মুখ খানিক দুঃখ খানিক’টা অভিমাণ আর খানিক রাগ মিশ্রিতও দেখা যাচ্ছে ।

তপু ওর ঘরে বন্দি । বাইরে থেকে লক করা দরজা । “নো বাইরে বের হওয়া হওয়ি, নিচে দাড়োয়ানদের গেইট পর্যন্ত গেছোনা ? কে জানে করোনা নিয়া আসছো কিনা ! আইসোলেশন শাস্তি পালন কর এবার ।”

এখন নিয়ম হচ্ছে তপুর বন্দি ঘরে সময় মত খাবার চলে যায় । ওর প্রিয় প্রিয় খাবার। যেমন, আইস্ক্রিম মালটোভা ইত্যাদি অন্য সময়ের লিমিটেশনের চেয়ে বেশি ওর ঘরে নির্দিষ্ট সময়ে সময়ে দেওয়া হয় । কিন্তু প্রত্যেক বারই আগের বারের খাবার একটুও না খেয়ে তপু ফেরত দেয় ।

“আমার ঈদ কার্ডের দোকান দেওয়ার জন্য আমাকে বাইরে যেতে না দিলে আমি কিছু খাচ্ছিনা । ঈদ কার্ড আর দোকান ব্যবসা বাসার নিচের গলিতে এইবার দিতে না পারলে ঈদ হবে নাকি ?

বাবার কথা, “পরের বার অনেক বড় করে দোকান দেওয়া হবে!”

মায়ের কথা, “থাব্রায়া তপুর সব দাঁত ফেলায়া দিয়ে, ঈদের গিফট হিসেবে সব আত্বীয়-স্বজনদের একটা একটা দাঁত পাঠানো হবে, আরেকবার দোকান দোকান করলেই ।”

তপুর কথা, ” ও আমি করলেই দোষ? টিভিতে দেখাচ্ছে সব দোকান-টোকান, মার্কেটে যেয়ে যেয়ে বাজার করছে সবাই । তাদের কোন দোষ কেন নাই ?”

তপুর তার ঘরে বন্দি জীবনে কম্পিউটারে গেইম খেলতে আগ্রহ বোধ করছেনা । কিচ্ছু ভাল্লাগছেনা । একেক বার একেক বন্ধু দের সাথে ফোনে কথা বলেও লাভ হচ্ছে না তার । “এই সময়ে ঈদ কার্ড কিনে আনা । তার দোকান দেওয়া । সবাইকে কার্ড না পাঠাইলে কেমনে কি, কিসের ঈদ তা’ই সে ভাবে ।”

কি যেন তার মাথার মদ্ধে উদয় হয় । কম্পিউটারে যেয়ে বসে সে ।

তপুর কম্পিউটারের পাশে রাখা প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট হয়ে অনেক অনেক ডিজাইন করা কার্টুন আঁকা কাগজ বের হতে থাকে । কাগজে অনেক জায়গায় ‘ঈদ মুবারাকও লেখা ।

তপু দুইটা ভাজ করা ডিজাইন করা কাগজ যা ঈদ কার্ডের মত দেখতে হাতে করে নিয়ে এসে একটা বাবাকে আর একটা মা’কে দিয়ে বলে, “ঈদ মুবারক আব্বু, ঈদ মুবারাক আম্মু”

বাবা মা দুইজনই অবাক, এই কান্ডে । মা কিচ্ছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে পরক্ষনেই হাসি দিয়ে বলে, “তো আরো কি ঈদ কার্ডের ডেলিভারি দেওয়া যাবে ? একটা আমার একমাত্র ছেলে আর একটা আমার একমাত্র স্বামীকে ঈদ উপলক্ষে, দিব । বাবা খুশির চোটে বলতে থাকেন, সাব্বাশ বেট্টা, সাব্বাশ ! সাব্বাশ… !

কিন্তু তপুর মুখ অভিমানে আর খানিক রাগেও ভরা । এই ভরা মনে সে তার ঘরে যায় । বিছানায় আধ শোয়া হয়ে থাকে ।

একটু পরে তপুর মা’র গলা । “তপু! তপু ! তোমার ফোন আসছে লেন-ফোনে ।”

তপু অবাক হয়ে যেয়ে ল্যান ফোন কানে লাগায় । পেছনে বাবা মা দাড়িয়ে আছে । তপু কি যেন কি কথা বলে ফোন রাখে ! রাখার একটু খানিক পর পর আরো কয়েকটা ফোন আসে । তপু আগের মতই কিছুক্ষন “হু হা, কোন ব্যাপার’ই না । পৌঁছে যাবে ।” এইসব কথা-বার্তা বলে বলে খুব ভাব নিয়ে ল্যান ফোন রাখে ।

তপুর বাবা তপুর দিকে অবাক হয়ে তাকায় ? চেহারায় আর হাত দিয়ে এমন ভংগি করে ছেলের দিকে তাকিয়ে । যার মানে , “কি ব্যাপার ঘটনা কি ?”

“তিন তলার আশা, চার এর রাকিব-রাতুল, দুই তলার আন্টি, আর সায়মাও তাদের বাসার সবার জন্য ঈদ কার্ডের অর্ডার দিল” বলে তপু খুব প্রফেশনাল ব্যবসায়ী হয়ে গেছে এখন সে , এমন ভংগি করে, ভাব বজায় রেখে, নিজের ঘরে ঢুকে, দরজা বন্ধ করে ।

ঘরের ওইপাশ থেকে তপুর গলা শুনা যায়, “কেউ যেন আমাকে ডিস্টার্ব না করে! ঈদ কার্ড ডিজাইন করা অনেক কষ্ট আছে ! আর আমার প্রিয় খাবার যেন ঠিক সময় মত আমার ঘরে হাজির থাকে! “

( শেষ )

চুপ বেয়াদব !

ভুল ধইরা দিলেই “বেয়াদব” বইলা আখ্যা দিয়া দিতে কত যে আরাম লাগে !

আজকে সরকারের ভুল ধইরা দিলে সরকার দেশদ্রোহী বইলা কারাগারে ভরে । সরকার এবং তার নিযুক্ত নেতা-কর্মীরাও তো আপনের আমার মত মন মানসিকতা নিয়াই বড় হইছে । আমাকে তাই এইগুলা অবাক করেনা । অবাক করে আমার যুগের বা জেনারেশনের মানুষ’গুলারেও একই চিন্তা-ভাবনায় বড় হইতে দেখলে… সাথে ভয়ও লাগে !!

কিসের সাথে কিসের তুলনা করলাম ? হাহাহা ! ভাইবা দেখেন ! ছোট পদে যে আছে, সে তার থেকা উচু আসনে বসা স্যার-বসকে কিছু বলতে পারেনা ! অন্যায় ধরায়া দিতে পারেনা, ‘বেয়াদব হয়া যাবে বইলাই । একদিন অই ছোট পদের উনিও বড় পদে বসতে বসতে আস্তে কইরা অই বস-স্যারটা’ই হয়া উঠেন !

আসসালামু আলাইকুম বস-স্যার… যাইগা…

বেশ করে ফেলেছি…

হেহ ! বিজ্ঞানি’রা আজকে বাইর করছে । আর এইটাতো কুরআন শরীফে আগে থেকাই ছিল । বলতে যে কত ভাল লাগে আমার !

কুরআন শরীফে আল্লাহ্‌য় বলছে । এইখানে আমার মহত্ত’টা কই ? আমি নিজে আল্লাহর কথা পইড়া কি করছি ? মানুষের কল্যাণে কি করতে পারছি ? অথচ কেউ ভাল কিছু করার চেষ্টা করতাছে আর আমি এইখানে এখন “হেহ আমগো কুরআন” বইলা ক্রেডিট নিয়া ফেলাইলাম । হাস্যকর !

আমি কিন্তু পড়ছি কুরআন । শুধু মনে রাখছি “মাইয়া মানুষ – মাইয়া মানুষের মত” থাকতে হইব, পর্দা ছাড়া কেন চলব ?” এইসব খুব মজা লাগে আমার। মুরগির মত মস্তিষ্ক বানায়া রাখছি নিজের মগজরে । পোলাদের পর্দার কথা আমার মনেই নাই ! আমার নিজের জানোয়ার মন ঠিক থাকলে যে দুনিয়াতে শান্তি বিরাজ করে তা আমি আবার এত বোঝার চেষ্টা করুম কেন ?

গুলি বানানো বন্ধ হয়া গেলে পিস্তলের আর প্রয়োজন নাই । তা দিয়া আর মানুষ মরবো না । মাথায় ঢোকার কথা না এইসব আমার… আল্লাহ হাফেজ…

একজন মানুষ প্রচলিত ধর্মের অনেক কিছুই মানে না । বিজ্ঞান যা কয় তার অনেক কিছুই মানে না । তার আল্লাহ তারে মগজ/ব্রেইন বা চিন্তা-বুদ্ধি দিছে । রিদয়’টা দিছে । ভাল-খারাপ নির্ণয় করতে দিছে এইগুলা, সে এইটা পুরাপুরি মানে ।।

আমরা মানুষ’রা দল বানাইতে এত পছন্দ করি যে ! স্বর্গে বা জান্নাতে যায়া সবার উপরের দলে/স্তরে কে থাকবো, আর এর পরের দলে কে থাকবো… সবার শেষের দলে কে থাকবো তা’ও আমরা অইহানে না যায়া’ই এই কালে বইসা বইসা বানায়ালছি ! 😅

ছোট বেলায় যেইসব পোলাপাইন মানুষের দ্বারা নানান ভাবে কষ্ট পায় ! তারা বেশির ভাগই বড় হয়া খুব খুব ভাল মনের মানুষ হয় । অনেকে কিন্তু আবার বড় হইয়া সেইরকমের সাইকোপ্যাথও হয়া যায় ভাইয়া !!

আমি ছোড থাকতে মাইনশে আমারে মডু, ভোটকা, ভোম্বল ইত্যাদি ইত্যাদি বলতো…

এখন কথা হইল । আমি কি কষ্ট পাইতাম নাকি আনন্দ পাইতাম ? কষ্ট পাইলে আমি ভাল মনের মানুষ হব বড় হয়া নাকি সাইকোপ্যাথ… ? 😀